প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
ডিম পুষ্টিকর খাবারের অন্যতম উৎস। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন এসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। তবে কোলেস্টেরলের ভয়ে অনেকে ডিম খাওয়া কমিয়ে দেন। অন্যদিকে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়ার সঙ্গে হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও হাড়ের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ইতিবাচক তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত ডিম খাওয়ার সম্ভাব্য ছয়টি উপকারিতা রয়েছে।
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক
২০২৫ সালে নিউট্রিয়েন্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে এক থেকে ছয়টি ডিম খাওয়ার সঙ্গে হৃদ্রোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি কম থাকা এবং দীর্ঘায়ুর সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় ডিম না খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় নিয়মিত ডিম খাওয়া ব্যক্তিদের হৃদ্রোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি ২৯ শতাংশ এবং সব কারণে মৃত্যুঝুঁকি ১৫ শতাংশ কম পাওয়া গেছে।
তবে এ ধরনের গবেষণায় দেখা সম্পর্ককে সরাসরি কারণ-ফল হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনও হৃদ্স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
২০২৩ সালে একই সাময়িকীতে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় সপ্তাহে অন্তত পাঁচটি ডিম খাওয়ার সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া যায়। গবেষণায় ডিমের পাশাপাশি আঁশসমৃদ্ধ খাবার, মাছ ও পূর্ণশস্য খাওয়ার গুরুত্বও উঠে এসেছে।
তবে ডিম খেলেই ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
মস্তিষ্কের সুস্থতা ও স্মৃতিশক্তি রক্ষায় সম্ভাবনা
২০২৬ সালের এপ্রিলে দ্য জার্নাল অব নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় ৪০ হাজারের বেশি মানুষের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে নিয়মিত ডিম খাওয়ার সঙ্গে আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গবেষণায় সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ডিম খাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি ২৭ শতাংশ কম দেখা যায়। তবে ডিম খাওয়া সরাসরি স্মৃতিভ্রংশ প্রতিরোধ করে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক
২০২৪ সালে ফুড অ্যান্ড ফাংশন সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দৈনিক প্রায় ১০০ গ্রাম ডিম খাওয়ার সঙ্গে মেরুদণ্ড ও ঊরুর হাড়ের নির্দিষ্ট অংশে হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
ডিমে থাকা প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান হাড়ের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে হাড় মজবুত রাখতে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও নিয়মিত ব্যায়ামও জরুরি।
চোখের সুস্থতায় পুষ্টি জোগায়
ডিমে থাকা ভিটামিন এ চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ডিমের চর্বি শরীরে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন শোষণে সহায়তা করে।
তাই সুষম খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে চোখের সব ধরনের সমস্যা প্রতিরোধে শুধু ডিমের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রেখে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা
ডিমের উচ্চমানের প্রোটিন তুলনামূলক দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। সকালের নাশতায় ডিম খেলে ক্ষুধা দেরিতে লাগতে পারে এবং দিনের অন্য সময়ে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
এভাবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে ডিম খাওয়া ওজন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।
প্রতিদিন কতটা ডিম খাওয়া উচিত?
ডিমের উপকারিতা থাকলেও সবার জন্য একই পরিমাণ ডিম উপযুক্ত নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। যাঁদের কোলেস্টেরল বেশি বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সারকথা: ডিম সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাবার। তবে সুস্থ থাকতে শুধু ডিম খাওয়াই যথেষ্ট নয়; সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সমন্বয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
