প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৩ এএম
ফ্রান্সে চলমান সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করেছে দেশটির সরকার। নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় আগামী শনিবার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি মাঠে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও করছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বহুগুণ বাড়ানো হবে। গত ১৭ অক্টোবর প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁসহ বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জনজীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
পুলিশের সঙ্গে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী
পার্লামেন্টে উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, পুলিশের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন।
বিভিন্ন শহরের কেন্দ্রস্থলে সহিংসতা ও ভাঙচুর ঠেকাতে প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু চলমান পরিস্থিতিকে ‘সহিংসতা বনাম প্রজাতন্ত্রের’ লড়াই হিসেবে দেখছেন। সহিংসতার জন্য তিনি অতি-বামপন্থী দলগুলোকে দায়ী করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা কমে যাওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে সরকার যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
কারফিউয়ের পর কিছুটা স্বস্তি
সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এ পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং দেশটিতে তুলনামূলক শান্ত রাত কেটেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরদের লক্ষ্য করে জারি করা বিশেষ কারফিউ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। শনিবার নতুন বিক্ষোভের ডাক থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
ব্যর্থতার দায় স্বীকার প্রধানমন্ত্রীর
গত সপ্তাহান্তে সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল বলে স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু। তাঁর মতে, গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতির পাশাপাশি পুলিশের মোতায়েন পরিকল্পনাতেও দুর্বলতা ছিল। পুলিশ কর্মকর্তাদের পূর্বনির্ধারিত ছুটি বাতিল না করাকেও তিনি কর্তৃপক্ষের ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজও এ ঘটনায় অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তার জন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। এ ব্যর্থতার দায় আমি নিজের কাঁধেই নিচ্ছি।
রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা ইউরোপজুড়ে
ফ্রান্সে চলমান অস্থিরতা এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন আগামী বছর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। জনমত জরিপে কট্টর ডান ও কট্টর বামপন্থী প্রার্থীদের ভালো অবস্থান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এদিকে ইতালি ও আলবেনিয়াসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় হিমশিম খাওয়ার মধ্যে মানুষের জীবনযাত্রার মান নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। ফলে ফ্রান্সের অস্থিরতা ইউরোপের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে ফরাসি সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো সহিংসতা ঠেকানো, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের ক্ষোভের কারণগুলো মোকাবিলা করা।
