প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে কোনোভাবেই বিতর্কিত না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে কারও কিছু বলার থাকলে সংসদে আলোচনা করা যেতে পারে। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুরের ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শিশুদের নৃত্যের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়।
বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে এই দেশটিকে স্বাধীন করেছিলাম তখন কিন্তু আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি।
প্রত্যেকটি মানুষ বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল। ঠিক একইভাবে দুই-আড়াই বছর আগে বাংলাদেশে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে।
এই দেশের ছাত্র-জনতা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাঁধে যে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল তাকে এই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের দিকে তাকালে দেখব সেখানে বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলন হয়েছিল। এই দেশটি হাজার বছর ধরে সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলছে। আগামী হাজার বছরেও আমরা একসাথে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।
ঐক্যের পরিবর্তে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় বর্তমান সরকার যখন সকলকে নিয়ে চলতে চাইছে তখন দেখছি একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অতীতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেউ একজন বিতর্কিত করতে চেয়েছিল, একটি দল বিতর্কিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই ফলাফলটা শুভ হয়নি।
তিনি বলেন, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি ২৪-এর যে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সেটিকেও কোনো কোনো মহল বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই- দয়া করে আপনারা কেউ ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করবেন না। আপনাদের যদি কিছু বলার থাকে আসুন আমরা সংসদে সেই কাজটি করি। আমরা অতীতের মতো এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করি যাতে করে জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটে।
বর্তমান সরকারকে জনগণের সরকার হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই দেশের মানুষ বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছে। হতে পারে কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে, কোথাও হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়- যে ভোট দিয়েছে তারও সরকার হতে চায়, যে ভোট দেয়নি তারও সরকার হতে চায়।
রংপুরের সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রংপুর মহানগরের উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে একনেক সভায় ১৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে জেলার উপজেলা ও গ্রামগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হবে।
