বৃহস্পতিবার ১৫, অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ১৫, অক্টোবর ২০২৬ -- : -- --

পশু জবাই বন্ধের বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের গণ-গরুভোজের আয়োজন।

রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মুক্তমঞ্চের সামনে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত রান্না ও খাওয়াদাওয়াকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার কারণ দেখিয়ে যেকোনো ধরনের পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামীকাল ক্যাম্পাসে গরু জবাই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।  

​বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি বিভাগের (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুক্তমঞ্চের সামনের উন্মুক্ত স্থানে প্রীতিভোজের অংশ হিসেবে গরুর মাংস রান্নার আয়োজন করেন। তবে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ঘটনাটিকে বিকৃত করে প্রচার করছে বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

​শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা রান্না করেছেন মুক্তমঞ্চের সামনে, যা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও দূরে অবস্থিত। মন্দির বা ধর্মীয় কোনো স্থাপনার সঙ্গে এই আয়োজনের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এছাড়া রান্নার কাজে ব্যবহৃত ইটগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মুক্তমঞ্চের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল; এগুলো কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ের অংশ নয়। ক্যাম্পাস ছোট হওয়ায় মুক্তমঞ্চের সামনের জায়গাটিতে সবসময়ই বিভিন্ন বিভাগ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানাবিধ অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে, যা মন্দির প্রতিষ্ঠার বহু আগে থেকেই প্রচলিত। ফলে এই স্বাভাবিক আয়োজনকে উদ্দেশ্যমূলক বা পরিকল্পিত ধর্মীয় অবমাননা হিসেবে উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

​শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি সাধারণ আয়োজনকে সাম্প্রদায়িক বিতর্কে রূপ দিয়ে ক্যাম্পাসের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি নষ্ট ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষের পারস্পরিক সহনশীলতার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ উল্লেখ করেন, জায়গা বা স্থাপনা নিয়ে অতীত প্রেক্ষাপট টেনে উসকানিমূলক বা অসংবেদনশীল মন্তব্য করাও অনভিপ্রেত।

​এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ ১৪ অক্টোবর ২০২৬ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস থেকে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ের অনুমোদনক্রমে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ আজম খান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ক্যাম্পাসে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। এই নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।  

​প্রশাসনের পক্ষ থেকে পশু জবাই বন্ধে এই নোটিশ জারির পর শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো নির্দিষ্ট আয়োজন বা পরিস্থিতিকে ভুল ব্যাখ্যা করে সামগ্রিকভাবে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আগামীকাল ক্যাম্পাসে গরু জবাই কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।

​এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যমান স্বাস্থ্যবিধির আলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

Link copied!