প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেয়ার ২০২৬’ শেষ হয়েছে। এতে বিভিন্ন খাতের ৮০টি স্বনামধন্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল নেসলে, বিকাশ, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক পিএলসি, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) শেষ হওয়া এ চাকরির মেলায় শিক্ষার্থীরা চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, জীবনবৃত্তান্ত জমা, সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং ক্যারিয়ার পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পান। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি উদ্যাপনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস অব ক্যারিয়ার সার্ভিসেস অ্যান্ড অ্যালামনাই রিলেশনস এ মেলার আয়োজন করে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মাসুদ খান। তিনি বলেন, “কর্মজীবন একটি ম্যারাথন দৌড়ের মতো। এখানে কোনো শর্টকাট নেই। আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে।”
তিনি শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের উৎকর্ষ, সততা, দায়িত্ববোধ এবং নিয়মিত নতুন দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নেওয়া, প্রতিষ্ঠানের চাহিদা বোঝা এবং সাক্ষাৎকারে নিজেদের বিশেষ যোগ্যতা তুলে ধরার পরামর্শ দেন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্জিত জ্ঞানই আমাদের ভিত্তি। পাঠ্যবই ও গবেষণায় প্রকাশিত জ্ঞান বাস্তব জগতের অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে। তাই আমরা যা শিখেছি, সেটাই আমাদের জ্ঞানের ভিত্তি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা অনেক দক্ষতা নিয়ে আলোচনা করি, তবে আমার কাছে মানবিক দক্ষতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই দক্ষতা না থাকলে আমরা অন্যদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারব না এবং সহমর্মিতাও হারিয়ে যাবে।”
ক্যারিয়ার মেলার দ্বিতীয় দিনে ‘ফ্রম আর্লি ক্যারিয়ার টু ফিউচার লিডার: বিল্ডিং আ ক্যারিয়ার দ্যাট ক্রিয়েটস ইমপ্যাক্ট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের বর্তমান ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর রূপালী হক চৌধুরী। তিনি জানান, প্রতিদিন ভোরে থালা-বাসন ধোয়ার একঘেয়ে কাজের মধ্যেও একজন সন্ন্যাসী নিজের কাজের উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি ভাবতেন, তাঁর কাজ অন্যদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করছে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম বলেন, “কর্মজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে। কখনো হতাশ হতে হবে, কখনো প্রত্যাখ্যাত হতে হবে। তবে এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখবেন, কঠিন সময়ই আপনাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।”
তিনি আরও বলেন, কর্মজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো নিজের কাজ পরিচালনা করা থেকে একটি দল পরিচালনা করা এবং পরবর্তী সময়ে অন্যদের পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া।
প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক শাহরিয়ার সাঈদ। তিনি বলেন, নতুন দক্ষতা শেখার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের নতুন পদ্ধতি সম্পর্কেও জানতে হবে। এভাবে হয়তো ২০ বছর পরও কর্মক্ষেত্রে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখা সম্ভব হবে। তবে আগামী দুই, তিন কিংবা পাঁচ বছর পর পরিস্থিতি কেমন হবে, তা অনুমান করা কঠিন।
এর আগে প্রথম দিনের ‘মিট দ্য সিইও’ সেশনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, “কোনো ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির সুশাসন ও সার্বিক কর্মপরিবেশ বিবেচনা করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি কমছে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। তাই আপনাদের নিজেদের এবং নিজেদের বাবা-মায়ের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
মেলার বিভিন্ন সেশনে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, সিটি ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, চিফ ইকোনমিস্ট ও কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার মো. আশানুর রহমান, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিজওয়ান দাউদ সামস, ব্র্যাক আইটি সার্ভিসেস লিমিটেডের চিফ পিপল অ্যান্ড কালচার অফিসার শারমিন সুলতান, চিফ সলিউশনস আর্কিটেক্ট শাহ আলী নেওয়াজ তপু, আইএইচএইচ হেলথকেয়ারের এইচআর অ্যান্ড অপারেশনস পরিচালক তৌফিকা ইরফান এবং প্রিমিয়াম সুইটসের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শাহরিয়ার রহমান। তাঁরা মেলার বিভিন্ন সেশনে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
