প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) অর্থনীতি বিভাগের সহযোগিতায় এবং জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরামের (জেইএফ) উদ্যোগে জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ইউআইইউ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা কে. এম. এ. শামীম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক।
প্রতিযোগিতাটিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ২২৪টি দল নিবন্ধন করে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করা, বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক যুক্তিবোধ বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে ‘ইকোনথন’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ অনুধাবন এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম মেধাবী ও উদ্ভাবনী তরুণ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সবকিছু একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়; তবে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যেতে হবে। একই সঙ্গে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নীতি ও চিন্তাভাবনা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধান অতিথি। তাঁর মতে, কোনো নীতি কাগজে সুন্দর দেখালেই যথেষ্ট নয়; সেটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, কত ব্যয় হবে, কারা উপকৃত হবে এবং শেষ পর্যন্ত ওই ব্যয়ের দায় কার ওপর পড়বে—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
‘ইকোনথন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় বিচারকরা যেমন অংশগ্রহণকারীদের ধারণার বাস্তবায়নযোগ্যতা মূল্যায়ন করেছেন, তেমনি সরকারকেও প্রতিদিন বিভিন্ন নীতি ও উদ্যোগের বাস্তবতা এবং সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইকোনথন’-এর উদ্দেশ্য জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৮, ১০ ও ১৭-এর সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈষম্য হ্রাস এবং লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্মানিত অতিথি হাসান মাহমুদ রাজা বলেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যবই ও শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে নিজেদের জ্ঞান প্রয়োগ, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং উদ্ভাবনী সমাধান তৈরিতে সহায়তা করবে।
ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া বলেন, ‘ইকোনথন ২০২৬’ শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তা, সমস্যা সমাধান ও ব্যবহারিক দক্ষতা গড়ে তোলার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী এবং সফল আয়োজনের জন্য জুনিয়র ইকোনমিস্টস ফোরামকে অভিনন্দন জানান।
