প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)-এর বিল্ডিং-৪ ক্যান্টিনে পরিবেশিত খিচুড়ির মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে কয়েকজন শিক্ষার্থী খাবারের মান, ক্যান্টিন পরিচালনা এবং ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন।
এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ক্যান্টিন থেকে খিচুড়ি নিয়ে খাওয়ার পর তাঁর বমি বমি ভাব হয়েছিল। খাবারের মান উন্নত করার জন্য ক্যান্টিনসংশ্লিষ্টদের জানানোর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে খিচুড়ির মান আগের চেয়েও খারাপ মনে হয়েছে বলেও জানান ওই শিক্ষার্থী।
তাঁর ভাষ্য, খাবারটি দেখে মনে হয়েছে—“শুধু ভাতে হলুদ দিয়ে ভেজে খিচুড়ি হিসেবে দেওয়া হয়েছে।” সকাল থেকে ক্লাস করার পর শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনে অন্তত ভালো মানের খাবার প্রত্যাশা করতেই পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শিক্ষার্থী মাহির শাহরিয়ার মন্তব্য করেন, “বলে লাভ নেই, অনেক বলছি। তাই ক্যান্টিনে খাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছি।”
তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যায়, খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নতুন নয়। তবে অভিযোগ জানানোর পর ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
আল ফারাবি নামের আরেক শিক্ষার্থী ক্যান্টিন পরিচালনা ও নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, “বিইউবিটির ক্যান্টিন পরিচালনাকারীদের মধ্যে একজন শিক্ষকের খুব ঘনিষ্ঠ একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা নিজেরাই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী খাবারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদেরও একটি স্টল দেওয়ার কথা বলেছিলাম। এতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু যাঁরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরা ভাগ পাবেন না বলেই হয়তো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।”
তবে আল ফারাবির এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা অভিযোগের ভিত্তিতে পাওয়া গেছে। ক্যান্টিন পরিচালনায় কোনো শিক্ষক বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রভাব রয়েছে কি না, কিংবা ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে খাবারের মান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশনের বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরও ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং ক্যান্টিনের ওপর আস্থাও কমে যেতে পারে।
বিইউবিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তুকিমূল্যে ক্যাফেটেরিয়া-খাবারের সুবিধা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার নিরাপদ রাখা, রান্না ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় রান্না, সংরক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্যে দূষণ রোধকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়।
বিল্ডিং-৪ ক্যান্টিনের খাবারের মান, ক্যান্টিন পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবসায়িক উদ্যোগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে ক্যান্টিনের খাবারের মান পরীক্ষা, মূল্যতালিকা প্রকাশ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত এবং ক্যান্টিন পরিচালনায় স্বচ্ছ নীতিমালা চালু করা হোক। পাশাপাশি একাধিক শিক্ষার্থীকে স্টল পরিচালনার সুযোগ দিলে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খাবারের মান ও সেবার উন্নতি হতে পারে বলেও তাঁরা মনে করেন।
