মোঃ শোয়েব বিন জামান। রুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
রবিবার ২০, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যানালাইসিসের (আইআইবিএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রুয়েট উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতার আওতায় রুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ব্যবসায় বিশ্লেষণ বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়ন, পেশাগত প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন প্রস্তুতি, গবেষণা এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতার সুযোগ বাড়বে। এ ছাড়া সেমিনার, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং ও নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন সংশ্লিষ্টরা।
চুক্তির আওতায় ব্যবসায় বিশ্লেষণ বিষয়ে সচেতনতা ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা যৌথভাবে চিহ্নিত করবে রুয়েট ও আইআইবিএ বাংলাদেশ। এসব প্রয়োজনের ভিত্তিতে আইআইবিএ বাংলাদেশ সেমিনার, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন প্রস্তুতি সেশন আয়োজন করতে পারবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব কার্যক্রমে রুয়েটের সংশ্লিষ্টরা বিশেষ বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া আইআইবিএ বাংলাদেশের নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠান, সেমিনার, সম্মেলন, কর্মশালা ও পেশাগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে রুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এসব অনুষ্ঠানে রুয়েট পৃষ্ঠপোষকতা বা সহ-আয়োজনও করতে পারবে।
সমঝোতার বিষয়ে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক ও রুয়েট ক্যারিয়ার ফোরামের উপদেষ্টা মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ বলেন, “আইআইবিএ বাংলাদেশ ও রুয়েটের মধ্যে এ সমঝোতা শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে সেমিনার, কর্মশালা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সংযোগ আরও বাড়ানো হবে।”
আইআইবিএ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত কবির বলেন, “তথ্যকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে যেকোনো কাজ আরও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। রুয়েট ও আইআইবিএ যৌথভাবে সামাজিক কল্যাণ, টেকসই উন্নয়ন ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নে কাজ করতে পারে।”
সমঝোতা অনুযায়ী, রুয়েটের ইন্টার্নশিপ, গবেষণা, পরামর্শকতা ও চাকরির সুযোগগুলো আইআইবিএ বাংলাদেশের সদস্যদের মধ্যে প্রচার করা যাবে। একইভাবে রুয়েটের প্রচলিত নিয়োগ নীতি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট সুযোগে যোগ্য আইআইবিএ সদস্যদের বিবেচনা করা যেতে পারে।
দুই প্রতিষ্ঠান সামাজিক কল্যাণ, টেকসই উন্নয়ন ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং কমিউনিটি উন্নয়নমূলক উদ্যোগও যৌথভাবে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করতে পারবে। ব্যবসায় বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষতা ও উদ্ভাবনকে স্বীকৃতি দিতে আইআইবিএ বাংলাদেশের সম্মেলন, সামিট, প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানেও রুয়েট অংশ নিতে পারবে।
এ ছাড়া নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইআইবিএ বাংলাদেশের মেন্টরিং কার্যক্রম ও সার্টিফিকেশন স্টাডি সার্কেলে অংশ নিতে পারবেন। ব্যবসায় বিশ্লেষণের মানদণ্ড, ‘বিজনেস অ্যানালাইসিস বডি অব নলেজ’ গাইড, আইআইবিএ সার্টিফিকেশন ও পেশাগত উন্নয়নের বিভিন্ন পথ নিয়ে বিনা মূল্যে প্রাথমিক সেশনও আয়োজন করতে পারবে আইআইবিএ বাংলাদেশ।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, পরিচালক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ, ইসিই অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শহীদ উজ জামান উপস্থিত ছিলেন।
আইআইবিএ বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত কবির, পেশাগত উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সভাপতি আজুবা খন্দকার, স্বেচ্ছাসেবা বিষয়ক সহ-সভাপতি মো. গোলাম গাউস সরকার এবং সদস্য মো. মাহবুব আলম।
উল্লেখ্য, আইআইবিএ বাংলাদেশ চ্যাপ্টার ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি দেশে ব্যবসায় বিশ্লেষণ চর্চার প্রসার, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে কাজ করছে। নিয়মিত ওয়েবিনার, প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা ও নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করে প্রতিষ্ঠানটি।