প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ এএম
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সারা দেশে প্রথম হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আরিফ উল করিম সিয়াম। তাঁর এই সাফল্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে।
তবে সিয়ামের কাছে এই অর্জন কেবল একটি পরীক্ষার ফল নয়; এটি বিশ্বাস, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও ধারাবাহিক পরিশ্রমের সম্মিলিত ফল। তাঁর সাফল্যের গল্পে যেমন রয়েছে সৃষ্টিকর্তার ওপর আস্থা, তেমনি রয়েছে নিজের প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনে কোনো ছাড় না দেওয়ার দৃঢ়তা।
সাফল্যের নেপথ্যের দর্শন জানতে চাইলে সিয়াম বলেন, “আমি সবসময় বিশ্বাস করি, দুটো জায়গায় ব্যালেন্স করে চলতে হয়— একটা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার কাছে চাওয়া আর দ্বিতীয়ত নিজের পরিশ্রমটা করা। সৃষ্টিকর্তা যদি না চান, তবে রিজিকের ফয়সালা হয় না।”
তবে এই বিশ্বাস তাঁকে কখনো নিষ্ক্রিয় করে রাখেনি। প্রার্থনার পাশাপাশি নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। সিয়ামের ভাষায়, “আমি আমার নিজের প্রচেষ্টা, একাগ্রতা এবং সততার মাধ্যমে লড়াইটা চালিয়ে গেছি।”
এই ভারসাম্য—আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও বাস্তব পরিশ্রম—তাঁর প্রস্তুতিকে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
বিজেএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে শুধু দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ। সিয়ামের প্রস্তুতির পথে ‘ডি জুরি একাডেমি’র মেন্টরদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি।
তাঁর মতে, পরীক্ষার জটিল প্রশ্ন, লিখিত বা বহুনির্বাচনী অংশ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হলে একাডেমির মেন্টররা আন্তরিকভাবে বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিতেন। এতে প্রস্তুতির দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।
সিয়ামের এই অর্জন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দীর্ঘদিনের সাফল্যের ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ১৩তম থেকে ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় টানা চারবার রাবির শিক্ষার্থীরা প্রথম হয়েছিলেন। ১৭তম পরীক্ষায় বিরতির পর ১৮তম বিজেএসেও শীর্ষস্থান ফিরেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ঘরে।
১৮তম বিজেএসের চূড়ান্ত ফলে সহকারী জজ পদে মোট ২০০ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
সিয়াম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি স্নাতকে ৩ দশমিক ৬৬ এবং স্নাতকোত্তরে ৩ দশমিক ৬৪ সিজিপিএ অর্জন করেন। তাঁর বাড়ি নওগাঁয়।
সফল হতে হলে প্রথমেই নিজের কাছে সৎ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সিয়াম। তাঁর মতে, প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা, একাগ্রতা ও পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সৎ থাকতে হবে। লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা এলেও ধৈর্য হারানো যাবে না। পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তার ওপর আস্থা রেখে নিজের দায়িত্বটুকু নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।
দেশসেরা হওয়ার পরও সিয়ামের কথায় আত্মতুষ্টির বদলে বিনয় ও দায়িত্ববোধই বেশি স্পষ্ট। তাঁর সাফল্যের গল্প তাই শুধু একটি পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার কাহিনি নয়; বরং বিশ্বাসকে শক্তি এবং পরিশ্রমকে পথচলার হাতিয়ার করে স্বপ্ন পূরণের এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
