বুধবার ০৯, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার ০৯, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

দুর্নীতি-অনিয়মে বরখাস্ত, ৭ বছর পর একই প্রতিষ্ঠানে পরিচালক

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির পরিচালক পদে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হওয়া সাবেক এক কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় সাত বছর আগে সরকারি চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হওয়া রামকান্ত সিংহকে গত ১৩ আগস্ট এক বছরের জন্য একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির পরিচালক পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

অথচ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৩ জুন রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে রামকান্ত সিংহকে একই প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

নথিপত্রে জানা যায়, মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রামকান্ত সিংহের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থসংক্রান্ত অনিয়ম, অসদাচরণ, নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রম, দাপ্তরিক শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ২ মে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। পরে একই বছরের ৬ নভেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিভাগীয় তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়।

চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে রামকান্ত সিংহ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-৩-এ এ.টি. মামলা নং-৪০৯/২০১৯ এবং মামলা নং-৭১/২০২১ করেন।

এদিকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হওয়ার প্রায় সাত বছর পর একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসার পর বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিয়োগের আগে তার চাকরির রেকর্ড, বিভাগীয় মামলার ফলাফল, বরখাস্তের আদেশ এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলাগুলোর তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

তাদের মতে, সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর অতীত চাকরির রেকর্ড ও প্রশাসনিক ইতিহাস যাচাই-বাছাই করা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। রামকান্ত সিংহের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া কতটা অনুসরণ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জানতে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির পরিচালক রামকান্ত সিংহের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে দ্বিতীয়বার ফোন রিসিভ করে বলেন, এ বিষয়ে এখন কথা বলব না, আমি গাড়িতে-যানজটে আছি। মামলা চলমান রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরে কথা বলব।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সরকারি মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর নম্বরেও কল করে সাড়া পাওয়া যায়নি।

চূড়ান্ত বরখাস্তের সাত বছর পর একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে রামকান্ত সিংহের পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন সচেতন মহল।

Link copied!