প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে নতুন জাতের হলুদ রঙের তরমুজ চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন তরুণ কৃষক মো. হাবিবুর রহমান। উপজেলার ৮ নম্বর ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকী গ্রামের এই কৃষক ২০ শতাংশ জমিতে অফসিজন রঙ্গিলা জাতের হলুদ তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছেন।
হাবিবুরের তরমুজখেত দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক ও দর্শনার্থীরা আসছেন। আগ্রহী কৃষকেরা তার কাছ থেকে হলুদ তরমুজ চাষের পদ্ধতি ও পরিচর্যার কৌশল জেনে নিজেরাও এ জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে ভাবকী গ্রামের হাবিবুর রহমানের খেতে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে হলুদ রঙের আকর্ষণীয় তরমুজ। আকার ও ওজনে বেশ ভালো ফলন হয়েছে। পাশাপাশি তরমুজগুলো স্বাদে মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় দর্শনার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ দেখা যায়।
কৃষক মো. হাবিবুর রহমান জানান, এ জাতের তরমুজ চাষে প্রতি শতকে প্রায় ১ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। সঠিকভাবে পরিচর্যা করা হলে প্রতি একরে ৩০ থেকে ৩৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ প্রায় ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো বাজারদর পাওয়ায় এ চাষে তিনি আশাবাদী। খেতে থাকা তরমুজ বিক্রি করে ভালো আয় হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অফসিজন রঙ্গিলা জাতের এই তরমুজ চাষ করা হয়েছে। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি তরমুজের স্বাদ ও রসালো ভাব ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অফসিজন রঙ্গিলা জাতের তরমুজ চাষ করে ভোগনগর ও মরিচা ইউনিয়নের কৃষক অতুল চন্দ্র ও হাবিবুর রহমান লাভবান হয়েছেন। ফলন, স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে হলুদ জাতের তরমুজ কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও এ জাতের তরমুজ চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়লে আগামীতে বীরগঞ্জে হলুদ রঙের এ তরমুজের চাষ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
