প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ এএম
সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমিয়ে বিধিমালা পরিবর্তনের প্রতিবাদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল—‘জেগেছে রে জেগেছে, ইবিয়ানরা জেগেছে’, লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে', ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইবা যাবে সেই পথে’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, মামা খালুর বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভাইবার নামে বানিজ্য চলবে না চলবে না’, ‘দোয়েল কোয়েল ময়না টিয়া, ভাইবায় আইসো টাকা নিয়া’, ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, মেধাবীদের মুক্তি দে’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’ ইত্যাদি।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা হয়েছে। অথচ বর্তমান সরকার আবারও চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তাদের দাবি, সরকারি চাকরির ভাইভা বোর্ড, এনটিআরসিএসহ বিভিন্ন নিয়োগে বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে এসবের পেছনে যারা জড়িত, তাদের পদত্যাগের পাশাপাশি শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
শাখা শিবিরের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ ইসলাম বলেন,
"সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এনটিআরসির অধীনে নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর এখন সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মেধাবীদের বঞ্চিত করে দলীয় ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি করা হবে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় ক্যাম্পাসগুলোতে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"
শাখা ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সভাপতি ইসমাইল রাহাত বলেন, "গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী-জনতা যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে তার বিরুদ্ধে গিয়ে সরকার কোনো আইন করবে এটা আমরা চাই না। সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের আমরা বিরোধিতা করছি। ভাইবায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থের প্রভাব বন্ধ করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা সরকারবিরোধী নই, শিক্ষার্থীরা সরকারের শক্তি ও সহযোগী। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে চাকরি থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।"
