বুধবার ০৯, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার ০৯, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

যেভাবে সমঝোতায় ফিরল ইবির ছাত্রদল ও শিবির 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাওহিদ ইসলাম

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

ফাইল ফটো

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহুর্তেই ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও মহড়া দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। তবে, গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে তাদের সহাবস্থান নিশ্চিত করেছে প্রক্টরিয়াল বডি।

জানা গেছে, গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইবির এক ছাত্রদল নেতা কর্তৃক শিবির নেতাকে থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জেরে ওইদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। অন্যদিকে, জিয়া মোড়সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয় ছাত্রশিবির। পরে বিকেলে প্রধান ফটকে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার জেরে সোমবার বিকেলে উভয় পক্ষ বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়। পরে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান উভয় দলের কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। এদিকে প্রক্টরিয়াল বডির উদ্যোগে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় ক্যাম্পাসে সংঘাতের আশঙ্কা কমেছে। 

সমঝোতার বিষয়ে শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, গত ৫ তারিখে জিয়াউর রহমান হলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রক্টর স্যারের সহযোগিতায় সমঝোতা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রক্টর স্যার অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রশাসনের যেকোনো পদক্ষেপে শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, "আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এটি করেছি। শনিবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে ছাত্রদল সচেতন থাকবে। শিক্ষার্থীরা যাতে ভয়-ভীতি ছাড়া নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে ছাত্রদল কাজ করবে এবং প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।"

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন, বিশেষ করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। প্রক্টরিয়াল বডি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Link copied!