মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
শনিবার ০৮, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
দ্রব্যমূল্যের আগুনে পুড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষের হাঁড়ি। নিম্ন আয়ের মানুষের আমিষের শেষ ভরসা ছিল ব্রয়লার মুরগি। সেই মুরগিও এখন সাধ্যের বাইরে। মৌলভীবাজারের বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকার কাছাকাছি। ফলে বাধ্য হয়ে মানুষ এখন কিনছেন মুরগির পা ও মাথা। প্রতি কেজি ১২০-১৩০ টাকা। এটুকুই এখন স্বল্প আয়ের পরিবারের আমিষের স্বপ্ন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০-২০০ টাকা, সোনালি কক ২৮০-৩০০ টাকা, লাল মুরগি ৭০০-৭৫০ টাকা এবং মুরগির পা-মাথা ১০০-১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আস্ত মুরগি কেনার সামর্থ্য নেই। তাই বাজারের এক কোণে দাঁড়িয়ে পলিথিনে করে পা-মাথা কিনছেন রিকশাচালক, দিনমজুর ও গৃহকর্মীরা।
জহুরা বেগম নামে এক গৃহকর্মী বলেন, “ব্রয়লার কিনতে এসেছিলাম। দাম শুনে মাথা ঘুরে গেছে, ১৮০ টাকা কেজি। পরে ১২০ টাকা দিয়ে পা-মাথা কিনলাম। মানুষের বাড়িতে কাজ করি। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। মুরগি কেনার সামর্থ্য কোথায়?”
শমশেরনগর বাজারের ঠেলাগাড়িচালক রফিক মিয়া বলেন, “গত এক মাসে একটি আস্ত মুরগি কিনতে পারিনি। বাচ্চাদের জন্য মাঝেমধ্যে ১২০ টাকা দিয়ে পা-মাথা কিনে আনি। এটাই এখন বিলাসিতা।”
কমলগঞ্জের বিক্রেতা সাচ্চু মিয়া বলেন, “অনেক ক্রেতা মুরগি কিনে ছিলিয়ে নেন, কিন্তু পা-মাথা নেন না। আমরা সেগুলো জমিয়ে কেজি ধরে ১০০-১৩০ টাকায় বিক্রি করি। নিম্ন আয়ের মানুষই এগুলো বেশি কেনেন।”
শহরের বিক্রেতা জহির মিয়া বলেন, “অনেকেই এখন গিলা, কলিজা, পা, মাথা, এমনকি চামড়াও কিনতে আসেন। সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। আমাদের কিছু করার নেই। পাইকারিতে মুরগির দামই বেশি।”
মৌলভীবাজারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন বলেন, “সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে মুরগির দাম বেড়েছে। আমরা নিয়মিত বাজার তদারকি এবং সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা করছি। যারা অন্যায়ভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
পুষ্টিবিদরা বলছেন, ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ায় নিম্ন আয়ের শিশু ও গর্ভবতী নারীদের মধ্যে প্রোটিনের ঘাটতি বাড়তে পারে। মুরগির পা ও মাথায় প্রোটিন তুলনামূলক কম, চর্বি বেশি। বাধ্য হয়ে মানুষ এখন বেঁচে থাকার জন্য এই আমিষই কিনছেন।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মৌলভীবাজারের হাজারো পরিবারের পাতে এখন আর মুরগির মাংস নেই; আছে শুধু মুরগির পা ও মাথা।