মঙ্গলবার ১৮, আগস্ট ২০২৬

মঙ্গলবার ১৮, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৯

নোবিপ্রবি থেকে রাকিব মোহাম্মদ আরজু

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মধ্যরাতে শুরু হওয়া মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিকসহ মোট ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয় এবং একজন বহিরাগতকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হঠাৎ ছাত্রদলের এক গ্রুপের আক্রমণে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় লাঠিসোঁটা হাতে বেশ কয়েকজন বহিরাগতকে সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বহিরাগতদের হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টরসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেও কিছু সময় সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় এবং বহিরাগতদের প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

দুপুরের সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীরা হলেন ১৫ তম ব্যাচের শামীম হোসেন, আইসিই ১৭ তম ব্যাচের সোহাগ চাকমা, টিএইচএম ১৭ তম ব্যাচের মাহমুদুল হাসান অন্তর, ডিবিএ ১৭ তম ব্যাচের কাইফ হাসান, ডিবিএ ১৮ তম ব্যাচের জহির হোসেন। এছাড়াও দায়িত্ব পালন করা কালে প্রেসক্লাবের এক সাংবাদিক আহত হয়৷ আহতদের নোবিপ্রবি মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর আগে ভোর রাতে হামলায় ​আহত হন পরিসংখ্যান ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাত, ফলিত গণিত বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং কৃষি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম। এসময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ২ সাংবাদিককে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠে।

এদিকে দুপুরে ঘটনাস্থলে এসে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, “ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করতে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই আমি নিজে সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। প্রশাসন, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একসঙ্গে কাজ করছেন। এই মুহূর্তে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত বাইরের কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন নেই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

গত রাতের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, “আজকের ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরপরই আমি সরেজমিনে পরিদর্শনে আসি। অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা ইতিমধ্যেই দূর করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে। ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের জন্য দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

Link copied!