প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি (এফএমআরটি) বিভাগে মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) প্রোগ্রামের উদ্বোধন ও প্রথম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১-এর সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপক কমান্ডার মোঃ ফয়েজ আল করিম এবং রাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জুনাইদ কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফএমআরটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ মতিউর রহমান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এফএমআরটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ মিজানুর রহমান। পরে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন মাস্টার্স প্রোগ্রামের কারিকুলাম নিয়ে বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এতে কোর্সের উদ্দেশ্য, ক্রেডিট বণ্টন, কোর ও টেকনিক্যাল কোর্স, গবেষণা কার্যক্রম, ল্যাব সুবিধা এবং দেশ-বিদেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয় তুলে ধরা হয়।
এ সময় ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর মাস্টার্সের প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী বলেন, এফএমআরটি বিভাগে মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালুর মধ্য দিয়ে বিভাগের পথচলায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তিনি এ প্রোগ্রাম চালুর জন্য বিভাগের শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানান এবং এর কারিকুলাম ও কোর্স কনটেন্টে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এ কোর্স যুগোপযোগী এবং লেক-কেন্দ্রিক মৎস্য গবেষণা ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উন্নত বিশ্বের ও দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের পাঠ ও গবেষণায় দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কাপ্তাই লেককেন্দ্রিক এখনো অনাবিষ্কৃত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণার আহ্বান জানিয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, শিক্ষার্থীরা এসব বিষয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে পারবে। একই সঙ্গে মানবসৃষ্ট দূষণ প্রতিরোধ, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, লেক ব্যবস্থাপনা ও ইকোসিস্টেম সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি দেশের সমৃদ্ধিতে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়গুলোর মধ্যে কাপ্তাই লেক সবচেয়ে বড়। এ লেকে ৮৬ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৭১ প্রজাতিই দেশীয়, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সমুদ্র ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও লেক ম্যানেজমেন্ট পলিসি প্রায় অনুপস্থিত। অথচ কাপ্তাই লেক দেশের জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিলুপ্ত বা বিপন্ন দেশীয় মাছের প্রজাতিগুলো পুনরুজ্জীবিত করা যায় কি না, সে বিষয়েও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে এ ক্ষেত্র আরও সমৃদ্ধ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাবিপ্রবি এ অঞ্চলের সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীদের এসডিজির আলোকে কাপ্তাই লেককেন্দ্রিক পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয় সমন্বয় করে গবেষণা করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কাপ্তাই লেক নিয়ে জিআইএসভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
গবেষণার ক্ষেত্রে বিএফডিসির সহযোগিতা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য দ্রুত ভাষা কোর্স চালু করা হবে।
বিএফডিসির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মোঃ ফয়েজ আল করিম বলেন, কাপ্তাই লেকের প্রধান অংশীজনদের মধ্যে বিএফডিসি অন্যতম। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা হলেও বর্তমানে কাপ্তাই লেক মৎস্য ও পুষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাবে পরিণত হয়েছে।
তিনি এ মাস্টার্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে কাপ্তাই লেককেন্দ্রিক গবেষণা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। প্রয়োজনে গবেষণার ক্ষেত্রে রাবিপ্রবিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও এফএমআরটি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ মতিউর রহমান চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপনী বক্তব্য দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি বিভাগের অনার্স প্রথম ব্যাচ থেকে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করা ১৩ জন শিক্ষার্থী মাস্টার্সের প্রথম ব্যাচে ভর্তি হয়েছেন। অনুষ্ঠানে মাস্টার্সের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন গোলাম রসূল সোহাগ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষার্থী মায়মূনা মুসাররাত তাসফিয়া।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে এফএমআরটি বিভাগের সব শিক্ষক এবং বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
