প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:২১ পিএম
শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একাধিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় অধ্যাপক প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, অধ্যাপক প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি দুটি তাঁকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য উচ্চতর একটি কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘উচ্চতর কমিটিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের একজন প্রতিনিধি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি কোনো প্রতিনিধি দেননি। তবে বিভিন্ন সময়ে তিনি লিখিতভাবে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। উচ্চতর কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তাঁর শাস্তির অনুমোদন দিয়েছে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ আগস্ট নিজ বিভাগের এক ছাত্রী ক্লাসে উপস্থিতির নম্বর ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে জানতে অধ্যাপক প্রভাস কুমারের চেম্বারে যান। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এ সময় তাঁকে পরীক্ষার সাজেশন দেওয়ার কথা বলে প্রশ্নপত্র দেখানো হয় এবং ছবি না তুলে খাতায় উত্তর লিখতে বলা হয়।
শিক্ষার্থীর অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় অধ্যাপক প্রভাস কুমার তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে অশোভনভাবে স্পর্শ করেন এবং কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেন।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীর মা গত বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। পরে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ নেয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পরে যৌন হয়রানির অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসে। দুটি অভিযোগের বিষয়ে পৃথক তদন্ত কমিটি কাজ করে। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী গঠিত উচ্চতর তদন্ত কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেয়।
সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
