প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্স থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার বলেন, আদিবাসী সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভেদ দূর করে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশে বসবাসকারী বিভিন্ন আদিবাসী ও জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও স্বতন্ত্র পরিচয়ের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের আদিবাসীদের ভূমি রক্ষায় ভূমি কমিশন গঠন এবং পাহাড়ি অঞ্চলের ভূমি অধিকার ও উচ্ছেদের সমস্যার সমাধান করা জরুরি। বাঙালি, আদিবাসী ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ঐক্য ও সমঅধিকার নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈচিত্র্যময় ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, রাজশাহীর সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাস চন্দ্র হেমব্রম বলেন, দেশে প্রায় ৪০ লাখ আদিবাসী জনগোষ্ঠী থাকলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন করা হয় না। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সাংবিধানিকভাবে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, স্বীকৃতির অভাবে আদিবাসীদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় হুমকির মুখে পড়ছে। ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে তাঁরা ভূমি হারানো ও উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সুভাস চন্দ্র হেমব্রম আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি কমিশন গঠন, মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে প্রিন্স হেমন্ত টুডু বলেন, শিক্ষা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম। অনেক ক্ষেত্রে একটি গ্রাম বা উপজেলা থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে উচ্চশিক্ষায় আসা শিক্ষার্থীদের নিজেদের পরিবার, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি সমাজের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সুযোগ পেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সংগঠন আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রিন্স হেমন্ত টুডু বলেন, ‘আমরা যেখানেই থাকি না কেন, শিক্ষা ও অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সমাজের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে হবে। ঐক্য ও সচেতনতার মাধ্যমে আদিবাসী সমাজকে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। পাশাপাশি সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আনতে হবে।’
