প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
স্কুলজীবন থেকেই নেতৃত্বের চর্চা। সেই পথ ধরে এবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তরুণ নেতৃত্ব শ্রেয়া ঘোষ। ইন্দোনেশিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক তরুণ সংগঠন ‘State of Youth’-এর সাত সদস্যের Youth Board (ইয়ুথ বোর্ড)-এ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার সংশ্লিষ্ট সংগঠন ‘State of Youth’ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ স্পটলাইট প্রকাশ করে। সেখানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী মেরি কুরি, মহাকাশচারী কল্পনা চাওলা এবং শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো বিশ্বখ্যাত নারীদের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের তরুণী শ্রেয়া ঘোষের নাম।
State of Youth-এর Youth Board-এ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শ্রেয়ার নির্বাচিত হওয়াকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নীলফামারিতে বেড়ে ওঠা শ্রেয়া ঘোষের নেতৃত্বের যাত্রা শুরু স্কুলজীবন থেকেই। জেলার সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান পাওয়ার মধ্য দিয়ে তার শিক্ষাজীবনের উজ্জ্বল পথচলা শুরু হয়। পরে তিনি ঢাকার শহীদ বীর উত্তম লেফটেন্যান্ট আনোয়ার গার্লস কলেজে পড়াশোনা করেন এবং একাধিক মেধাবৃত্তি অর্জন করেন।
ছোটোবেলা থেকেই নেতৃত্ব, বিতর্ক, বিজ্ঞানচর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন শ্রেয়া। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে আঞ্চলিক, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
শ্রেয়ার অর্জনের তালিকাও দীর্ঘ। তার ঝুলিতে রয়েছে দুশোর বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ৫০টিরও বেশি সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এই অভিজ্ঞতা তাকে বহুমাত্রিক নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করেছে। বিতর্কে ১৪ বার জাতীয় পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি পাবলিক স্পিকিংয়েও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।
বর্তমানে প্রায় ৪৪ হাজার তরুণ-তরুণীর একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সামাজিক, শিক্ষামূলক ও নেতৃত্ব বিকাশমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন শ্রেয়া।
শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিশু-কিশোরদের জন্যও কাজ করছেন তিনি। শ্রেয়ার প্রতিষ্ঠিত ‘আলোর সন্ধানী’ এবং ‘Shreya's Learning Classroom’ উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শ্রেয়ার মতে, শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি।
মেনস্ট্রুয়াল হেলথ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন শ্রেয়া। সমাজে এ বিষয়ে প্রচলিত ট্যাবু ভাঙতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তিনি। নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে ৪৪টি গ্রামে মেনস্ট্রুয়াল হেলথ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন শ্রেয়া। তার এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও প্রশংসিত হয়েছে।
গবেষণা, লেখালেখি, বিতর্ক, আবৃত্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাচর্চাতেও সক্রিয় শ্রেয়া। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই তার লেখা তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা ও নেতৃত্বের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সামাজিক সমস্যার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান নিয়ে কাজ করার আগ্রহও রয়েছে তার। এ আগ্রহ তাকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দিয়েছে।
উত্তরের একটি জেলা নীলফামারী থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক একটি ইয়ুথ বোর্ডে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন শ্রেয়া ঘোষ। তার এই অর্জন দেখিয়েছে, স্বপ্ন, পরিশ্রম ও নেতৃত্বের সমন্বয় থাকলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের সম্ভাবনাকেও আরও দৃশ্যমান করেছে তার এই অর্জন।
