সোমবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোমবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

বাস আটকে দেওয়ার ঘটনায় ছাত্রদলকে রাকসু ভিপি-জিএসের হুঁশিয়ারি

রাবি থেকে মো.রেজওয়ান

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী কলেজের সামনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাস আটকে দেওয়ার ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সমালোচনা করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। এ ঘটনায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সংঘাত তৈরির চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী কলেজগেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস আটকে দেওয়ার ঘটনায় পৃথক বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারা।

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, "রাজশাহী কলেজের সামনে ১০-১৫ জন ছাত্রদলের ছেলেরা বাস আটকেছিল। আমি ভিডিও দেখে নিশ্চিত হয়েছি। কমপক্ষে ১০ জন শিক্ষার্থীকে কল দিয়েছি, তারা এতে জড়িত নয়।’

তিনি আরও বলেন, "রাজশাহী কলেজের প্রিন্সিপাল স্যারকে কল দিয়েছি। উনি বলেছেন, পরবর্তী সময়ে এমন কোনো সমস্যা হবে না। সেখানে এসপিসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবাই এসেছেন।"

ছাত্রদলের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে আম্মার বলেন, "ছাত্রদল নিজেদের সংশোধন করেন, নাহলে অচিরেই নিজেদের কপাল চাপড়াতে হবে।"

এদিকে, রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করে ছাত্রদলের কয়েকজন বাস আটকে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।

তিনি বলেন, "বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত হলাম, রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা বাস আটকায়নি। মূলত কলেজের নাম করে ছাত্রদলের কয়েকজন গিয়ে বাস আটকে দিয়েছে। তাদের তথ্যও আমি পেয়েছি। তারা মূলত কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সংঘাত লাগাতে চাচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো বিরোধ নেই। শিক্ষার্থীদের হিস্যা শুধু রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। যারা বিষয়টি অযথা দলীয়ভাবে নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন, তাদের সাবধান করছি। আমাদের মাথা ঠান্ডা রাখতে দিন, নইলে সামলাতে পারবেন না।"

এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহিম আলী বলেন, "আমি বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে পুলিশ প্রশাসন এবং কিছু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধে আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলি। তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়ে আটকে রাখা বাসটি ছেড়ে দেয়। এরপর একাধিক বাস নির্বিঘ্নে গন্তব্যে ছেড়ে গেছে।"

ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং তারা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের উল্লেখ না করে বলেন, "আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে আমি তাদের শিক্ষার্থী হিসেবেই দেখছি। কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের বিষয় নিয়ে কথা না বলে আমি তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যেন কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব বা ঝামেলা তৈরি করা না হয়।"

তিনি আরও বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কোনো প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান নয়। তাদের গাড়ি আমাদের দিকে আসবে, আমাদের গাড়িও ওদিকে যাবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের কোনো ছাত্র যেমন বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যেন কোনো ভোগান্তিতে না পড়ে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে এবং আশা করছি তারা এই নির্দেশ মেনে চলবে।"

অধ্যক্ষ জানান, কথা বলার পর শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে পরবর্তীতে যাতায়াতে আর কোনো ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে না। বর্তমানে ওই রুটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এর আগে, রাজশাহী স্টেশনে রাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। পোস্টে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি দাবি মানা না হলে প্রতিটি ট্রেন থেকে দুইজন করে কর্মচারী তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলওয়ে স্টেশনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

রাত ১১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে দাবি মানা না হলে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ‘মার্চ টু রাজশাহী স্টেশন’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।স্টেশনে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সিসিটিভি, হেল্প ডেস্ক ও জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেন বলে জানা যায়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষক স্টেশনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। রাত আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা স্টেশন ত্যাগ করেন।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এক রাবি শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগের প্রতিবাদে এ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

Link copied!