মঙ্গলবার ২২, সেপ্টেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার ২২, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

রাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে স্টেশন ভাঙচুর, তদন্তে কমিটি

রাবি থেকে মো.রেজওয়ান

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

ছবি| ক্যাম্পাস রিপোর্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম। কমিটিতে পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা, বিভাগীয় চিকিৎসক কর্মকর্তা, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এবং পাকশী কমান্ড্যান্ট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্যকে রাখা হয়েছে।
এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। আহত অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে রোববার রাত ১০টার দিকে হামলার প্রতিবাদে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ফেসবুকে এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। ওই সময়ের মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। দাবি মানা না হলে প্রতিটি ট্রেন থেকে দুইজন করে কর্মচারী তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা রাবি রেলওয়ে স্টেশনে জড়ো হয়ে রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরএনবির চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে এতে সন্তুষ্ট না হয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যান। একপর্যায়ে সেখানে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হন। এ সময় জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুর ইসলামকেও ভাঙচুরে অংশ নিতে দেখা যায়। শিবিরের বিভিন্ন কর্মীও সেখানে অংশ নেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
পরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ স্টেশনে ভাঙচুর চালায়। এ সময় স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা, ডাস্টবিন, জানালার কাচ, কাচের দরজা, টিকিট কাউন্টার ও যাত্রীদের বসার চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
একপর্যায়ে মহানগর যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর ঠেকাতে ঘটনাস্থলে এলে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন বলে জানা গেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এলে তাঁদেরও ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ প্রায় ৩০ জন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের দিকে নিয়ে আসেন।
এরপরও ঘটনাস্থলে কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করলে মহানগর যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের ধাওয়া-পালটাধাওয়া হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরে খবর পেয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার আবার ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামও উপস্থিত হন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গতকালও আমাদের বারবার কথা হয়েছে, আজও আলোচনা চলছে। কিন্তু এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তখন যদি দৃষ্টান্তমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি এ পর্যায়ে আসত না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে, রেলওয়ের ভেতরেই কোথাও একটা সমস্যা আছে। সেখানে যারা দায়িত্বে আছেন, তাঁরা হয়তো বিষয়গুলো জেনে-শুনেও যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছেন না।’
এদিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘সবাই প্রশ্ন করছে, আমাদের মধ্যে সমস্যা কেন হচ্ছে। এই সমস্যা আর থাকবে না। আমরা রাবিতে যাব। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসব, গল্প করব। কোনো রাগ-অভিমান থাকলে তা শেয়ার করব, ভালো লাগার বিষয়গুলোও শেয়ার করব।’
তিনি বলেন, ‘একটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে আমরা সারা রাত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষকে ব্যস্ত রেখেছি। এতে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে।’

Link copied!