প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৭ এএম
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) চারটি আবাসিক হলে পৃথক সময়ে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি আদেশনামায় এ তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির দুই সভাপতি।
আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহামকে এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংস্থাপন শাখা-২ এর অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. মঞ্জুর হোসেনকে। অন্যদিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি এনিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞা এবং সদস্য-সচিব কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এইচ. এম. সাগর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশনামা অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই দিবাগত রাত থেকে ২৪ জুলাই দুপুর পর্যন্ত আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এ সময় উভয় হলের মূল ফটক, সীমানা প্রাচীরের লাইট, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া ১ ও ২ আগস্ট হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পৃথক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহাম বলেন, “আজই তদন্ত কমিটির দায়িত্বসংক্রান্ত চিঠি হাতে পেয়েছি। মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করব। আমরা উভয় হল সরেজমিনে পরিদর্শন করব এবং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।” অপর তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞাও জানিয়েছেন, সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এদিকে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। যারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। এরপরও তাদের ছাত্রত্ব বহাল থাকবে কি না, সেটিও আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
