মঙ্গলবার ০৪, আগস্ট ২০২৬

মঙ্গলবার ০৪, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

নবীন শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন,সম্ভাবনা ও প্রেরণার ক্যাম্পাস পাবিপ্রবি

ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনেই এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। দীর্ঘ জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা যখন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) প্রাঙ্গণে প্রথম পা রাখেন, তখন তাদের চোখে ছিল কৌতূহল, উচ্ছ্বাস এবং অসংখ্য প্রত্যাশার ঝিলিক।

সমাজকর্ম বিভাগের মোছা. সুরাইয়া আক্তার শান্তা বলেন, “এক বুক আশা ও আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু হয়েছে। সবুজ-শ্যামল, শান্ত ও মনোরম ক্যাম্পাসের পরিবেশ প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ করেছে। শিক্ষক ও সিনিয়রদের আন্তরিকতায় নতুন পরিবেশের সব দ্বিধা-ভয় দ্রুত দূর হয়ে গেছে। আবাসন সংকট ও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এসব সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের অন্যতম সেরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। পাবিপ্রবি আমাদের জন্য স্বপ্নপূরণ ও নিজেকে গড়ে তোলার এক অনন্য ঠিকানা।”

সমাজকর্ম বিভাগের মো. শাহীন মিয়া বলেন, “স্বপ্ন এবং স্বপ্নপূরণের মাধ্যম হিসেবে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আমার জীবনের ডানা মেলার একটি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে স্বপ্ন দেখা এবং সেই স্বপ্নের পূর্ণতার জন্য একজন নবাগত শিক্ষার্থী হিসেবে গত কিছু দিনে প্রিয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, কর্মচারীবৃন্দ, সিনিয়র ভাই-বোন, সহপাঠী ও বন্ধু-বান্ধবসহ প্রকৃতির সবুজ সমারোহে ঘেরা এই ক্যাম্পাস আমার জীবনের লক্ষ্য পূরণে নতুন করে প্রেরণা জুগিয়েছে। আমি আশাবাদী, আমার স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি আধুনিক যুগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সূর্যের আলোর মতো জ্ঞানের পরিধি ছড়িয়ে দিতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আমার সহায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের অভি কুমার বালা বলেন, “নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার যাত্রা শুরু। অচেনা পরিবেশ ও নতুন মানুষের মাঝে শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও সিনিয়রদের সহযোগিতায় তা দ্রুত দূর হয়ে যায়। পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ আমাকে সমৃদ্ধ করছে। ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশ, প্রাণবন্ত আড্ডা ও মুক্তচিন্তার চর্চা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলেছে। একজন নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি জ্ঞান, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছি।”

সমাজকর্ম বিভাগের মিশেলা মেহেদী মশি বলেন, “পাবনা শহরের হৃদয়ে অবস্থিত পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ একরের এই প্রাঙ্গণে এবার আমাদের মতো প্রায় ৮০০ জন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। আমরা সেই নতুন বীজ, যারা স্বপ্ন দেখছি আগামী চার বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলব। আমাদের মধ্য থেকেই কেউ ভবিষ্যতে গবেষক, শিক্ষক কিংবা সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা হয়ে দেশসেবায় নিয়োজিত হবে। ক্যাম্পাসটি ছোট হলেও ভীষণ গোছানো, এখানে হল, মাঠ, ক্যাফেটেরিয়া থেকে শুরু করে মসজিদ ও নান্দনিক নকশার মন্দিরসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, যা আমাদের এক অসাম্প্রদায়িক প্রশান্তির অনুভূতি দেয়। উপাচার্য মহোদয়ের শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ এবং ডিবেটিং সোসাইটির মতো নানা সহশিক্ষা কার্যক্রম আমাদের মুগ্ধ করেছে। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখার আসল ঠিকানা এখন আমাদের এই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।”

নবীন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাছে কেবল উচ্চশিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান নয়,বরং স্বপ্ন দেখার, নিজেকে গড়ে তোলার এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার এক অনন্য প্রেরণার নাম। নতুন প্রজন্মের এই স্বপ্ন ও প্রত্যাশাই আগামী দিনে পাবিপ্রবিকে আরও সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত করে তুলবে।

Link copied!