মঙ্গলবার ০৪, আগস্ট ২০২৬

মঙ্গলবার ০৪, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

শহীদ আনাসের চিঠির ফলক উন্মোচন ইবিতে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাওহিদ ইসলাম

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আনাস হলে শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের লেখা চিঠির ফলক উন্মোচন করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের লেখা চিঠির ফলক উন্মোচন করা হয়েছে। 

সোমবার (০৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আনাস হলে চিঠির ফলক উন্মোচন করা হয়। একই সঙ্গে শহীদদের স্মরণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির ১১৬ নম্বর কক্ষে ইবি ল্যাবরেটরী স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান এবং ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম।

এ সময় শহীদ আনাসের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ, নানা সাইদুর রহমান খান এবং তাঁর ভাই। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আনাসের বাবা সাহরিয়া খান পলাশ বলেন, "আনাসকে নিয়ে অনেকের সাথে কথা বলতে হয়। সেগুলো আমাদের বলতে খুবই কষ্ট হয় কিন্তু তারপরও বারবার বলতে হয়। সন্তান হারানোর যে যন্ত্রণা, এটা এক মাত্র বাবা-মাই জানে। আনাস ছাড়া আজ আমরা ৭২৯ দিন কাটাচ্ছি। আমাদের ভেতরে যেই আহাজারির যন্ত্রণা, পৃথিবীর কোনো কিছুই আমাদের এই যন্ত্রণাকে লাঘব করতে পারবে না। আনাস ছোটবেলা থেকেই খুব আদর্শবান সন্তান ছিল। আমাদের ইচ্ছে ছিল তাকে মাদ্রাসায় পড়াবো, কুরআনের হাফেজ বানাবো। এক-দেড় বছর পর্যন্ত তাকে মাদ্রাসায় পড়ানো হয়। তারপর সে সেখানে থাকতে চায় না; পরে তাকে স্কুলে ভর্তি করাই। প্রাইমারি শেষ করার পর ওর ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বে, বুয়েটে পড়বে। তো সেই স্বপ্ন তো স্বপ্নই রয়ে গেল।"

ফলক উন্মোচনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, "এটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এর মধ্য দিয়ে এই হলের শিক্ষার্থীরা তার চিঠিটি পড়ে জানতে পারবে আনাস দেশপ্রেমিক একজন নাগরিক হিসেবে নিজেকে কীভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। দশম শ্রেণিতে পড়া আনাসের দেশপ্রেমের যে চিহ্ন আমরা চিঠিতে দেখলাম তা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যতদিন দায়িত্বে থাকবে, জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এই কর্মসূচিগুলো গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করবে।"

স্মৃতিফলক উন্মোচনের পর শহীদ আনাসের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ইবি কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম আশরাফ উদ্দিন খান আজহারী।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দশম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাস তাঁর মাকে একটি চিঠি লিখে সকালে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে রাজধানীর চাঁনখারপুলে পুলিশের গুলিতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

Link copied!