প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও আবাসিক হলের উদ্যোগে সেমিনার, আলোচনা সভা, বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কয়েক দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও বিভিন্ন অতিথিরা অংশ নেন।
রোববার (২ আগস্ট) রাতে জগন্নাথ হলের কিশোরী লাল রায় চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪: আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। হলের প্রাধ্যক্ষ ড. দেবাশীষ পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষক ড. প্রমথ মিস্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মেঘমল্লার বসু, হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মধুসূদন কুন্ডু হৃষীকেশ, সদস্য-সচিব প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নিত্যানন্দ পাল এবং জগন্নাথ হল শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণু পণ্ডিত। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও আবাসিক শিক্ষক সঞ্জয় দে রিপন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, দেশপ্রেম এবং গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, এই আন্দোলন দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং শহীদদের আত্মত্যাগ বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪: আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম হন নয়ন দাস, দ্বিতীয় প্রিয়রঞ্জন দাস প্রান্ত এবং তৃতীয় হন পাপন ত্রিপুরা।
এদিকে সোমবার (৩ আগস্ট) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘চেতনায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: দায়িত্ববোধ এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার, আলোচনা সভা, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণের আয়োজন করা হয়। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. তানিয়া রহমান, অধ্যাপক ড. মো. গোলাম আজম এবং ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেখ তোহীদুল ইসলাম।
একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগও পৃথকভাবে নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ‘জুলাই বিপ্লব ও গণ-অভ্যুত্থান: স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা ২০২৬’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে আলোচনা সভা, গণিত বিভাগে ‘রক্তাক্ত জুলাই: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ‘স্মৃতিতে রক্তাক্ত জুলাই ২০২৪’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ‘জুলাইয়ের প্রশ্ন ও প্রত্যাশা: সমাজবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আগামী ৪ আগস্ট ফলিত গণিত বিভাগে ‘জুলাই টাইম লাইন ২০২৪: আকাঙ্ক্ষা, প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, তাৎপর্য ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল।
