রবিবার ১৩, সেপ্টেম্বর ২০২৬

রবিবার ১৩, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

চাকরি পরীক্ষায় মৌখিক নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ছাত্রশিবির সভাপতির

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১১ পিএম

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, “চাকরি পরীক্ষায় মৌখিক নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার নিজের দলীয় লোক নিয়োগের এজেন্ডা হাতে নিয়েছে। যদি সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে বিরত না থাকে, তাহলে আবারও আন্দোলন শুরু হবে। শতভাগ মেধার ভিত্তিতেই একটি দেশ গড়ে উঠবে এবং মেধার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের নিতে হবে।”

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি। 

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “পিএসসি সংস্কার করতে হবে, নির্বাচন কমিশন সংস্কার করতে হবে, মহাহিসাব নিরীক্ষকের ওই জায়গাটা সংস্কার করতে হবে । অর্থাৎ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোগুলোকে সংস্কার করতে হবে। পিএসসির গঠনমূলক সব সংস্কার করতে হবে। জুলাইয়ের অন্যতম দাবি ছিল সাংবিধানিক সব কাঠামো সংস্কার করা।”

তিনি বলেন, “সংস্কারের জন্য সংবিধান সংস্কার কমিটিতে শপথ নিতে হবে। জামায়াতে ইসলামী শপথ নিয়েছে, কিন্তু তারা (বিএনপি) শপথ নেননি। আপনারা মনে করছেন, তরুণ প্রজন্ম কিছুই বোঝে না, তারা এমনি এমনি জুলাই বিপ্লব করেছে। সরকারকে অনুরোধ জানাই, বর্তমান প্রজন্মকে দুর্বল মনে করবেন না, আমাদের মেধাকে নষ্ট করবেন না। বিশ্ববিদ্যালয় যে আন্দোলন করেছে, সে আন্দোলনের কারণেই আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এলাকায় এলাকায় রাস্তাঘাটে বিশ্ববিদ্যালয় বানানো হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের শতভাগ থাকার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে না। যে বিশ্ববিদ্যালয় তার ছাত্রদের থাকার জায়গা দিতে পারে না, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের থাকার নৈতিক কোনো অধিকার নেই।”

শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা এত কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তাদের থাকার সিটের বন্দোবস্ত করতে পারে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারে, আর ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাইরে থাকে। এই ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর থাকার বন্দোবস্ত বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারেনি।”

তিনি বলেন, “পিএসসিতে হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট দেওয়া হয়, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয় না। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করা শিখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করে বলতে হবে, আগামী দুই বছরের মধ্যে শতভাগ আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা জুলাইয়ের পরে এসে সব গণরুম ভেঙে দিয়ে চুরমার করে ফেলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম ভেঙে দিয়ে ছোট ছোট সিট করে দেওয়া হয়েছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এখন মেধার ভিত্তিতে সিট পাচ্ছে।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, প্রায় ৪ হাজার নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।

Link copied!