প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ পিএম
মোঃ জাহিদুল ইসলাম জিহাদী, ক্রাইম রিপোর্টার: বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, সরকারি ল্যাপটপের যথাযথ ব্যবহার না করা, শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং শিক্ষকতার পাশাপাশি ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। বিদ্যালয়ে এলেও অল্প সময় অবস্থান করে চলে যান। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এছাড়া বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ১৭টি সরকারি ল্যাপটপের অধিকাংশই শিক্ষকদের বাসায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষকের বাসাতেও একটি সরকারি ল্যাপটপ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গেও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেন না এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়েও পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেন না। এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দিতে না পেরে খাতা দেখে বলতে হবে বলে জানান।
প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেনের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, তিনি ১৯৮৮ সালে এসএসসি দ্বিতীয় বিভাগে, ১৯৯১ সালে এইচএসসি তৃতীয় বিভাগে এবং ১৯৯৫ সালে বিএসসি তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ ধরনের ফলাফল নিয়ে তিনি কীভাবে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেন অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি বিধি অনুযায়ীই প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তথ্য সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকরা চলে আসার কিছু সময় পর প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন সাংবাদিক মোঃ হাফিজুর রহমান খানের সঙ্গে দেখা করে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সাংবাদিক ঘুষ গ্রহণ না করে বিষয়টি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
মোকামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোঃ আতিক হাসান বলেন, "অত্র বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ভিতরে শিক্ষক কোন আচরণ নাই।তিনি সব সময়ই ব্যস্ত থাকেন তার ঠিকাদারি কাজ নিয়ে।তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ আছে।তিনি এসএসসিতে দ্বিতীয় বিভাগে, এইচএসসিতে তৃতীয় বিভাগ এবং বিএসসিতে তৃতীয় বিভাগে পাস করে সে কি করে প্রধান শিক্ষক হলেন।এর মত তথ্য গোপনকারী মিথ্যাবাদী প্রধান শিক্ষকের অপসারণ চাই আমরা।"
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শিরিন আক্তার বলেন, "মোকামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আনোয়ার হোসেন ২০১৮ সালের পরিপএ অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিয়েছেন। ২০১৮ সালের পরিপত্রে উল্লেখ আছে যে সার্টিফিকেটে যদি দুইটি তৃতীয় শ্রেণীতে পাশ থাকে তাহলে সে প্রধান শিক্ষক হতে পারবে না। কিন্তু সে কিভাবে প্রধান শিক্ষক হয়েছে সেটা আমার জানা নেই কিন্তু যদি তার সত্যতার প্রমাণ পাই তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
প্রধান শিক্ষকের ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, "একজন প্রধান শিক্ষক সার্বক্ষণিক স্কুলে থাকতে হবে এবং স্কুল দেখাশুনার দায়িত্ব তার।সে যদি স্কুলের মধ্যে বাহিরে কোন কাজ করে এতে যদি তার দায়িত্বে পরিপন্থী ঘটায় যদি অভিযোগের সত্যতা পাই তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রতিষ্ঠানে দেওয়া সরকারি ল্যাপটপ বাসায় নেওয়ার কোন সরকারি নিয়ম নাই যদি সরকারি ল্যাপটপ বাসায় নিয়ে থাকে তাহলে সে আইনের পরিপন্থী কাজ করেছে।"
অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
