প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
আর মাত্র তিন মাস পর শেষ হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ। দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেওয়া ২৪ দফা সংস্কার প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে,মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে সেই প্রশ্নই এখন আলোচনায়।
গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ ২৩টি পদের মধ্যে ভিপি ও এজিএসসহ ২০টিতে জয় পেয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে। নির্বাচনের আগে জোটটি শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ দফা সংস্কার ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। তবে গত নয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি অংশে অগ্রগতি হলেও অধিকাংশ এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা স্থাপন, শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ, ক্যান্টিন ও ডাইনিংয়ের খাবারের মানোন্নয়ন ও মূল্য নির্ধারণে পদক্ষেপ, ক্যাম্পাসে ফার্মেসি চালু, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং ক্রীড়াবিষয়ক কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে শতভাগ আবাসিকতার রোডম্যাপ, প্রশাসনিক সেবা অ্যাপ, অন-ক্যাম্পাস কর্মসংস্থান, ২০ শয্যার মেডিকেল সেন্টার, পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, নির্বাচনের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে প্রতিনিধিদের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের চেয়ে দলীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী হয়েছেন। ফলে ইশতেহারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।
আরেক শিক্ষার্থী সাকিব মল্লিক বলেন, শতভাগ আবাসিকতার রোডম্যাপ ও আবাসিক ভর্তুকির প্রতিশ্রুতি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি আশাবাদী করেছিল। কিন্তু মেয়াদের শেষ দিকে এসেও সে বিষয়ে কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। যদিও লাইব্রেরি সংস্কারের মতো কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবু রাকসুর কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়েছে বলে তাঁর মন্তব্য।
রাকসুর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও রাকসুর পরাজিত জিএস প্রার্থী নাফিউল ইসলাম জীবনও। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণে রাকসু সফল হয়নি।
তবে এসব সমালোচনার সঙ্গে একমত নন রাকসুর নেতারা। ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ইশতেহারের ৫৯ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে বা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বাকি কাজগুলোর জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, তহবিল–সংকট এবং প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাব অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই ধরনের বক্তব্য দেন রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির। তিনি বলেন, প্রশাসনের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় অনেক উদ্যোগ নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবু ধাপে ধাপে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
মেয়াদের শেষ তিন মাসে রাকসু তাদের বাকি প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিই এখন শিক্ষার্থীদের নজরে।
