মঙ্গলবার ২১, জুলাই ২০২৬

মঙ্গলবার ২১, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

জবিতে 'স্মরণে জুলাই,ছাত্রদল ও অন্যান্য’য় শীর্ষক আলোচনা ও স্মরণসভা

রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একটি পুরো প্রজন্মের গৌরবগাথা হিসেবে আখ্যায়িত করে এর ইতিহাস ও চেতনাকে আগামী প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মতোই এই গণঅভ্যুত্থানও আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

​রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্মরণে জুলাই, ছাত্রদল ও অন্যান্য’য় শীর্ষক এক আলোচনা ও স্মরণসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​স্মরণসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের প্রজন্মের এক চরম আত্মত্যাগ ও গৌরবগাথা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যেভাবে আমরা ধারণ করি, তেমনিভাবে এই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আদর্শকেও আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। জুলাইয়ের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা একেকজনের কাছে ভিন্ন হতে পারে, তবে এর মূল শিক্ষা ও স্বৈরাচারবিরোধী চেতনা এক ও অভিন্ন। এই চেতনাকে অটুট রাখতে আমাদের নিয়মিত আলোচনা, গবেষণা ও স্মরণমূলক আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে।”

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে একটি ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী আন্দোলন। এই আন্দোলনে যারা দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। জুলাইয়ের চেতনাকে বুকে ধারণ করে এখন আমাদের একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দল-মত নির্বিশেষে একযোগে কাজ করতে হবে।”

​স্মরণসভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “জুলাই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন বা স্বল্পমেয়াদি ঘটনা নয়; এটি দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিক ফল। বহু বছরের ধারাবাহিক আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার সুদৃঢ় সংগ্রামের মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারী শাসনের পতনের চূড়ান্ত পথ তৈরি হয়েছিল।”

সভাপতির বক্তব্যে, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের এক অবিনাশী প্রতীক। শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা সঠিকভাবে তুলে ধরতে ক্যাম্পাস পর্যায়ে গবেষণা ও বিভিন্ন স্মৃতিচারণমূলক কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।”

​স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন। তারা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

​এছাড়াও স্মরণসভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দীন বাসিত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি এ কে এম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বি, শাখা ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব শাহিন মিয়া, মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ, জকসুর প্রতিনিধি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক নুর নবী, সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লাসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

Link copied!