সোমবার ০৬, জুলাই ২০২৬

সোমবার ০৬, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

নারীর বন্ধ্যত্ব: কারণ, ঝুঁকি ও করণীয়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৩ এএম

প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো

দাম্পত্য জীবনে এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত এবং কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করেও গর্ভধারণ না হলে তাকে বন্ধ্যত্ব (ইনফার্টিলিটি) বলা হয়। তবে নারীর বয়স যদি ৩৫ বছরের বেশি হয়, তাহলে ছয় মাস চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, বন্ধ্যত্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ নারী, আরেক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে পুরুষ এবং বাকি ক্ষেত্রে উভয়ের সমস্যা বা অজানা কারণ দায়ী। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর জুন মাসকে বন্ধ্যত্ব সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়।

বন্ধ্যত্বের প্রধান কারণ

স্বাভাবিকভাবে প্রতি মাসে ডিম্বাশয় থেকে একটি পরিপক্ব ডিম্বাণু বের হয়। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়। পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, থাইরয়েডের সমস্যা, প্রোল্যাকটিন হরমোনের অস্বাভাবিকতা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অপুষ্টি ডিম্বস্ফোটনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনের পথ হিসেবে কাজ করে ফেলোপিয়ান টিউব। এই টিউব আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলে নিষিক্তকরণ সম্ভব হয় না। পেলভিক সংক্রমণ, যৌনবাহিত রোগ, এন্ডোমেট্রিওসিস এবং জননাঙ্গের যক্ষ্মা এ ধরনের সমস্যার অন্যতম কারণ।

এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আবরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ডিম্বাশয়, ফেলোপিয়ান টিউব এবং আশপাশের অঙ্গে প্রদাহ ও আঠালোভাব তৈরি হয়ে গর্ভধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এ ছাড়া জরায়ুর ফাইব্রয়েড, এন্ডোমেট্রিয়াল পলিপ, আশারম্যান সিনড্রোম এবং জন্মগত জরায়ুর গঠনগত ত্রুটিও বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে।

বয়সও প্রজননক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে থাকে। বিশেষ করে ৪০ বছরের পর স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

অতিরিক্ত স্থূলতা কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় খুব কম ওজন, ধূমপান, মাদকাসক্তি, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, পরিবেশদূষণ এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শও প্রজননক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

চিকিৎসা ও করণীয়

বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণের ওপর। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, ধূমপান ও মাদক থেকে বিরত থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে প্রজননক্ষমতা উন্নত করা সম্ভব।

হরমোনজনিত সমস্যায় প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের মাধ্যমে ডিম্বাণু উৎপাদন ও ডিম্বস্ফোটন স্বাভাবিক করা যায়। আবার ফাইব্রয়েড, পলিপ, এন্ডোমেট্রিওসিস কিংবা ফেলোপিয়ান টিউবের কিছু সমস্যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

কিছু ক্ষেত্রে আইইউআই পদ্ধতিতে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা শুক্রাণু সরাসরি জরায়ুতে প্রবেশ করানো হয়, যাতে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ে।

যদি অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না আসে, তাহলে আইভিএফ কার্যকর একটি বিকল্প। এ পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনের মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করে পরে তা জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

তথ্যসূত্র: সিডিসি, এনএইচএস

Link copied!