প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের (জুলাই–ডিসেম্বর সেশন) পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে জমা দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম ডাউনলোড করা যাবে। আবেদনপত্র পরিষ্কারভাবে লিখে বা টাইপ করে যথাযথভাবে পূরণ করে বিভাগীয় চেয়ারম্যান বা ইনস্টিটিউট পরিচালকের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
আবেদন ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদন ফি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি শাখার জনতা ব্যাংকে ১,০০০ টাকা (অফেরতযোগ্য) জমা দিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে-
- ১,০০০ টাকা জমার মূল রশিদ
- সব পাবলিক পরীক্ষার নম্বরপত্র ও সনদের ফটোকপি
- সম্প্রতি তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (তত্ত্বাবধায়ক/বিভাগীয় চেয়ারম্যান/ইনস্টিটিউট পরিচালক কর্তৃক সত্যায়িত)
- গবেষণার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা
যারা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তাদের আবেদন করার আগে ডিগ্রির সমতা নির্ধারণ করে নিতে হবে।
ভর্তির যোগ্যতা
আবেদনকারীর এমফিল ডিগ্রি থাকতে হবে। বিকল্পভাবে, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স অথবা তিন বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে।
শিক্ষাজীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগ বা শ্রেণি অথবা ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। সিজিপিএ পদ্ধতিতে মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত প্রতিটি পরীক্ষায় ৫-এর মধ্যে অন্তত ৩.৫০ অথবা ৪-এর মধ্যে ৩.০০ অর্জন করতে হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শর্ত
দেশের কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা প্রার্থীরা সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারবেন না। তাঁদের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হবে। এরপর নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে পিএইচডিতে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ থাকবে।
গবেষণা প্রকাশনার শর্ত
আবেদনকারীর স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশিত কমপক্ষে দুটি গবেষণা প্রবন্ধ থাকতে হবে। তবে কলা, সামাজিক বিজ্ঞান এবং বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অন্তত একটি গবেষণা প্রবন্ধ অবশ্যই একক লেখক হিসেবে প্রকাশিত হতে হবে।
তিন বছর মেয়াদি অনার্সধারীদের অতিরিক্ত যোগ্যতা
যাদের তিন বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্তভাবে নিচের যেকোনো একটি অভিজ্ঞতা থাকতে হবে- স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত দুই বছরের শিক্ষকতা, স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দুই বছরের গবেষণা-অভিজ্ঞতা। সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা।
চাকরিজীবীদের জন্য ছুটির নিয়ম
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষক ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আবেদনকারীদের পূর্ণকালীন পিএইচডিতে ভর্তি হতে হলে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে অন্তত এক বছরের ছুটি নিতে হবে।
- তবে তত্ত্বাবধায়ক ও বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুপারিশ এবং একাডেমিক পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে এই শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।
- চাকরিরত এমফিল ডিগ্রিধারী বা এমফিল থেকে পিএইচডিতে স্থানান্তরিত গবেষকদের ছুটি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে নিয়োগকর্তার অনুমতি থাকতে হবে।
- খণ্ডকালীন পিএইচডি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রেও ছুটি প্রয়োজন নেই, কিন্তু কর্মস্থলের অনুমতি আবশ্যক।
বৃত্তির সুযোগ
মেধার ভিত্তিতে প্রতি শিক্ষাবর্ষে ৩০ জন গবেষককে মাসিক বৃত্তি দেওয়া হবে। তবে যারা চাকরিরত অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি বা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, তারা এই বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবেন না।
সফল গবেষকদের জন্য দ্বিতীয় বর্ষে বৃত্তি নবায়নের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে অতিরিক্ত দুটি বৃত্তিও প্রদান করা হবে।
হল ও অন্যান্য নিয়ম
পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে যে হলে ভর্তি হতে চান, সেই হলের প্রাধ্যক্ষের স্বাক্ষর নিয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে হলে থেকে কোনো শিক্ষার্থী এমফিল বা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন, একই হলে পিএইচডিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বসংক্রান্ত বিধান
একজন তত্ত্বাবধায়ক এমফিল ও পিএইচডি-দুই প্রোগ্রাম মিলিয়ে এককভাবে সর্বোচ্চ আটজন এবং যৌথভাবে সর্বোচ্চ দশজন গবেষকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক নিজেই এমফিল বা পিএইচডি করবেন, তাদের এই সংখ্যার মধ্যে গণনা করা হবে না।
নতুন গবেষক ভর্তির ক্ষেত্রে বিভাগের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক অথবা পিএইচডিধারী সহকারী অধ্যাপক তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যদি কোনো তত্ত্বাবধায়ক দীর্ঘমেয়াদি ছুটি, ডেপুটেশন বা অবসরে যান, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী একজন যুগ্ম তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেওয়া হবে।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সব যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকারী প্রার্থীরাই কেবল আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপত্রে কোনো তথ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য প্রদান করলে ভর্তি বাতিল করা হবে।
