শনিবার ০৪, জুলাই ২০২৬

শনিবার ০৪, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৮ শতাংশ সহকারী শিক্ষকের পদ খালি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম

সংগৃহীত

দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট এখনো কাটেনি। বর্তমানে ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকার অনুমোদিত ১৫ হাজার ২৯৩টি পদের মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি, অর্থাৎ ১৮ শতাংশের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। নতুন করে ৭২৮ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হলেও তাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ খালি থেকে যাবে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২০ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক স্তরে পাঠদান হয়। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭০২টি। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকার অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৫ হাজার ২৯৩টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি পদ শূন্য, অর্থাৎ ১৮ শতাংশের বেশি পদে শিক্ষক নেই।

বর্তমান জনবলকাঠামো পর্যাপ্ত কি না, সে প্রশ্নও রয়েছে। তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষকসংকট আরও প্রকট হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে ৭২৮ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই নিয়োগ সম্পন্ন হলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ শূন্যই থেকে যাবে।

২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে ২০১৮ সালের মধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৩০-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে এখনো গড়ে প্রতি ৩৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। যদিও বিদ্যালয়ভেদে কোথাও কোথাও এই অনুপাত আরও বেশি।

শুধু শিক্ষকসংকটই নয়, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনেও নেতৃত্বের সংকট রয়েছে। দেশের ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষকের আরও ২৪৯টি পদ খালি রয়েছে।

এদিকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

গত ২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদে সিলেট-৫ আসনের খিলাফত মজলিসের সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট ২ হাজার ৮৪২টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট নিরসনে শূন্য পদের তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো যায়। দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরও জানান, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকসংকট নিরসনে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে শূন্য পদ পূরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শূন্য পদ পূরণ করা সম্ভব হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষকসংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে।

মাদ্রাসাশিক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে তিনটি সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এবং ৮ হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসা রয়েছে। সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় ১১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসায় সুপারিনটেনডেন্টের ১ হাজার ৩৫৪টি এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্টের ১ হাজার ৭৭৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদও এনটিআরসিএর মাধ্যমে পূরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।

Link copied!