প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ এএম
পরীক্ষা পরিচালনা, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মানির হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। পাশাপাশি উত্তরপত্র নিরীক্ষণ, ওএমআর টপশিট এবং লিথোগ্রাফিক কোডিং-ডিকোডিংসহ কয়েকটি নতুন ব্যয় খাতও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অর্থ বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করে। একই পরিপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সম্মানি আগের মতোই জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা বহাল রয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় নির্বাচন বা পদোন্নতি কমিটির সদস্যরা প্রতি সভায় ৬ হাজার টাকা করে পাবেন। মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার বোর্ডের সদস্য এবং বিশেষজ্ঞদেরও প্রতিদিন জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা সম্মানি দেওয়া হবে।
উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান হার বহাল রাখা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ লিখিত উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রতিটি খাতায় ১৩০ টাকা এবং পূর্ণ অবজেকটিভ (এমসিকিউ) উত্তরপত্র পরীক্ষণের জন্য প্রতিটি খাতায় ৩৫ টাকা প্রদান করা হবে। তবে নতুনভাবে উত্তরপত্র নিরীক্ষণের জন্য প্রতিটি খাতায় ১৫ টাকা সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরীক্ষা পরিচালনায় সরাসরি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানিও বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত হার অনুযায়ী, নবম গ্রেড ও তার ঊর্ধ্বতন কর্মচারীরা প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ টাকা পাবেন, যা আগে ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। দশম থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের সম্মানি ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের দৈনিক সম্মানি ৮০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রতিটি উত্তরপত্রে ৫০ টাকা, লিখিত পরীক্ষার ভেন্যুর প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা তার মনোনীত সমন্বয়কারীকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং লিখিত পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিদর্শককে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ টাকা সম্মানি আগের হারেই বহাল রাখা হয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষার আসনবিন্যাস বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৩ টাকা ব্যয় করা যাবে। উত্তরপত্র প্রস্তুত (কাগজসহ) বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৬ টাকা। এছাড়া প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, কাগজ, ডুপ্লিকেটিং মেশিন ভাড়া (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং কালি বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৫ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যয় খাত হিসেবে ওএমআর টপশিট মুদ্রণ ও ক্রয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ২০ টাকা, লিথোগ্রাফিক কোডিং ও ডিকোডিংয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা এবং প্রচলিত কোডিং-ডিকোডিংয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ৪ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় আপ্যায়ন ব্যয় সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা এবং ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ-২০২৬’-এর বিধান অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। প্রয়োজন হলে দুপুর বা রাতের খাবারের ব্যয় সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বহন করা যাবে এবং নাস্তার জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুইবার ব্যয় করা যাবে।
অন্যদিকে ট্রাঙ্ক, তালা-চাবি, কাগজ, কলমসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে এ খাতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা ব্যয় করা গেলেও নতুন পরিপত্র অনুযায়ী তা বৃদ্ধি করে ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
