প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:১২ পিএম
বগুড়ার নবগঠিত দুটি ইউনিয়নের নাম নিয়ে বিতর্কের জেরে সেগুলোর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকায় সমালোচনার মুখে পড়া ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মৌখিকভাবে এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছেন। তবে এখনো এ-সংক্রান্ত কোনো লিখিত নির্দেশনা জেলা প্রশাসনের হাতে পৌঁছায়নি।
জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে নামগুলো পরিবর্তন করার জন্য।’
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হয়তো চিঠি আসবে। তবে উনি বলেছেন, তাই আমরা শুরু করব। মৌখিক নির্দেশনা পেয়েছি।’
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নাম পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে নতুন করে গণশুনানি আয়োজন করা হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ইউএনও সাহেব আবার গণশুনানি করবেন। যেখানে যেখানে নাম পরিবর্তনের বিষয় আছে, সেই ইউনিয়নগুলোতে নতুন করে তারিখ দেওয়া হবে। ওই তারিখে সবাই উপস্থিত হবেন। গণশুনানির মাধ্যমে যে নাম উঠে আসবে, সেটাই হয়তো করা হবে।’
গত ১১ জুন জেলা প্রশাসনের এক প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জে ‘মীরবাড়ী’ এবং মোকামতলায় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে তিনটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়।
তবে নতুন ইউনিয়নগুলোর মধ্যে ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, ‘মীরবাড়ী’ নামটি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নামের সঙ্গে মিলে যায়। একইভাবে তাঁর দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে দুই ইউনিয়নের নামের মিল পাওয়া যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। রাজনৈতিক মহলেও এ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। এমনকি জাতীয় সংসদেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়।
সংসদে জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন, ইউনিয়নের নাম স্থানীয় মানুষের মতামত ও প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম বেছে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর ছেলেদের নামের সঙ্গে মিল থাকা নিছক কাকতালীয়।
তবে সেই ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক থামেনি। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলো। জেলা প্রশাসনের সূত্র বলছে, নতুন নাম নির্ধারণের পর তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
