শনিবার ২০, জুন ২০২৬

শনিবার ২০, জুন ২০২৬ -- : -- --

লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সীমান্তে বর্জ্যের পাহাড়

উপজেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬, ০১:১১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বর্ডার বাজার এলাকায় গড়ে উঠেছে বিশাল বর্জ্যের স্তূপ। রায়পুর-ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এ স্থানটি এখন কার্যত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজারো পথচারী ও যাত্রীকে তীব্র দুর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রায়পুর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার সীমানা নির্দেশক তোরণের নিচে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ফরিদগঞ্জ থেকে রায়পুরে প্রবেশের মুখে ‘স্বাগত রায়পুর উপজেলা’ লেখা তোরণ থাকলেও বাস্তবে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে পরিবেশ দূষণের এক উদ্বেগজনক চিত্র। একই অবস্থা রায়পুর থেকে বের হওয়ার পথেও। স্থানীয়দের দাবি, গত ছয় থেকে সাত বছর ধরে রায়পুর পৌরসভা ও বাজার এলাকার বর্জ্য এখানে ডাম্পিং করা হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশে মারাত্মক প্রভাব

বর্জ্যের স্তূপে মরা মুরগি, হাঁস, পশু-পাখির অবশিষ্টাংশসহ বিভিন্ন পচনশীল বর্জ্যের পাশাপাশি ভাঙা টেলিভিশন, ফ্রিজ এবং প্লাস্টিকজাতীয় অপচনশীল বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি জীবাণুর বিস্তার এবং পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বর্জ্যের কারণে আশপাশের প্রায় চার হাজার মানুষ সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলার ফলে সড়কের পাশের খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে, যা পানি প্রবাহ ব্যাহত করার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এছাড়া সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১০ মাসে অন্তত শতাধিক যাত্রী অটোরিকশা থেকে পড়ে আহত হয়েছেন।

ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে।

তবে রায়পুর পৌরসভার কনজারভেন্সি পরিদর্শক দাবি করেছেন, পৌরসভার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন কিংবা নির্ধারিত জমি না থাকায় বাধ্য হয়েই সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলতে হচ্ছে। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন শহর ও বাজার এলাকা থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ১০০ থেকে ১১০ টন বর্জ্য ওই স্থানে ফেলা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জহির হোসেন, স্বপন আহমেদ ও জান্নাতুল ফেরদৌস রিপাসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে এমন পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা মনে করেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নানা প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও প্রথম শ্রেণির একটি পৌরসভা এখনো উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

দ্রুত বিকল্প ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তুলে সীমান্ত এলাকার এই ময়লার ভাগাড় অপসারণ এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Link copied!