প্রকাশিত: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর আর মাত্র তিন দিন বাকি। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ইতোমধ্যে স্বাগতিক অঞ্চলে পৌঁছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। তবে বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুতেই ব্যতিক্রমী এক দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল।
দেশ ত্যাগের আগে ইরানের ফুটবলাররা পবিত্র কোরআন শরিফে চুম্বন করেন এবং দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। ধর্মীয় আবহে অনুষ্ঠিত এই বিদায়ী আয়োজনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বকাপগামী বিমানে ওঠার আগে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে কোরআন শরিফে শ্রদ্ধাভরে চুম্বন করছেন এবং তা মাথায় স্পর্শ করছেন। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত অসংখ্য সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে দলকে শুভকামনা জানান। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দলটি বিশেষ বাসে করে বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের এই প্রতীকী আয়োজন বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে আবেগঘন এই বিদায়ের আড়ালে ইরান দলের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দেখা দিয়েছে মার্কিন ভিসা ইস্যু।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরান দল দীর্ঘদিন তুরস্কের আন্তালিয়া শহরে অনুশীলন ক্যাম্প পরিচালনা করে। সেখান থেকেই খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসার আবেদন করেছিলেন।
তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, ইরানি ফুটবলাররা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা পেয়েছেন। কিন্তু পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল স্কোয়াডের সদস্যরা ভিসা পেলেও প্রতিনিধি দলের ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও টেকনিক্যাল স্টাফের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। ফলে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হয়েছে ইরানকে।
এসব বাধা সত্ত্বেও দলটি ইতোমধ্যে মেক্সিকোতে পৌঁছেছে। তবে গ্রুপ পর্বে তাদের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ভিসা-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা এবং দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে ইরানকে মেক্সিকোকেই বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আবার ম্যাচ শেষে মেক্সিকোতে ফিরে আসবে দলটি। বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত যাতায়াত খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি শারীরিক চাপ তৈরি করতে পারে, যা মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের পাশাপাশি ইরানকে তাই এবার মাঠের বাইরের নানা বাস্তবতাও মোকাবিলা করতে হবে।
