সোমবার ১৮, মে ২০২৬

সোমবার ১৮, মে ২০২৬ -- : -- --

‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচিতে স্থবির ক্যাম্পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

ফাইল ফটো

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ নবনিযুক্ত উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে চলমান আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে পূর্বঘোষিত ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

সকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবনেও তালা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গেটে অবস্থান করলেও আন্দোলনকারীরা কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না।

গত বৃহস্পতিবার সরকার মোহাম্মদ ইকবাল-কে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে।

নতুন ভিসির নিয়োগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় ঢাকা-শিমুলতলী সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। শুক্রবারও আন্দোলন অব্যাহত থাকে এবং নতুন ভিসিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ব্যানার টাঙানো হয়।

রোববার ‘নতুন ভিসিকে লাল কার্ড’ কর্মসূচি ঘিরে পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে,নবনিযুক্ত ভিসি মোহাম্মদ ইকবাল-এর নিয়োগ বাতিল,ডুয়েটের নিজস্ব শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ,,সংঘর্ষে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা

এদিকে নতুন ভিসি গতকাল সন্ধ্যায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তিনি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় করেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা দেখা গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি। উভয় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পাল্টাপাল্টি বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

Link copied!