প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে অপসারিত অধিকাংশ উপাচার্য জামায়াতপন্থী মতাদর্শের ধারক ছিলেন বলে দাবি করেছেন নাছির উদ্দীন নাছির।
রোববার বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ দাবি করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় আসার পর কয়েক দফায় দেশের ২০টিরও বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)সহ ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়।
নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই ডুয়েটে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনে নামে। পরে রোববার সেই আন্দোলন সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ফেসবুক পোস্টে নাছির লেখেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মানোন্নয়ন, একাডেমিক পরিবেশ পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু এই ইতিবাচক পরিবর্তনই গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাত্রশিবিরের জন্য।”
তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া অধিকাংশ উপাচার্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন এবং প্রকাশ্যে কিংবা নেপথ্যে জামায়াতপন্থী মতাদর্শের ধারক ছিলেন।
পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এই জামায়াতপন্থী প্রশাসনকে ব্যবহার করেই ছাত্রশিবির দীর্ঘদিন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুপ্ত রাজনীতি, মব সন্ত্রাস, ভয়ভীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, সিন্ডিকেট ও নিজেদের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের রাজত্ব কায়েম করেছিল।”
নবনিযুক্ত উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ছাত্রশিবির ফেইক পেজ ও গোপন প্রোপাগান্ডা সেল ব্যবহার করছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, “মুখে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকারের কথা বললেও বাস্তবে ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি ও ভয়ভীতির সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী–কে ঘিরে চলা সমালোচনাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন নাছির। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া, বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করা একজন শিক্ষককে অযোগ্য বলা “মিথ্যাচারনির্ভর রাজনীতির” অংশ।
একইভাবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল–কে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের বিরোধিতার সমালোচনাও করেন তিনি। তার মতে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া দীর্ঘদিনের স্বীকৃত প্রক্রিয়া।
ডুয়েটে নবনিযুক্ত উপাচার্যের যোগদান ঠেকাতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সহিংস হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাছির। তিনি বলেন, “তারা আদর্শের রাজনীতি নয়, সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।”
সবশেষে শিক্ষাঙ্গনে “গোপন এজেন্ডাধারী অপশক্তির” বিরুদ্ধে ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
