প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
সন্ত্রাসী হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়িছাড়া হওয়ার কথা জানিয়েছেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হামরকোনা গ্রামের সিএনজি চালক শেখ ছালাম। প্রতিবন্ধী মেয়ের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবিতে রোববার দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে শেখ ছালাম অভিযোগ করেন, একই এলাকার শেখ জুয়েলের ভয়ে তিনি ও তার পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।
তিনি জানান, গত রমজান মাসে মসজিদে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন শেখ জুয়েল। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। তবে এর জেরে গত ২ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেখ জুয়েল, তার স্ত্রী আখি বেগম ও মা খয়রুন নেছা তার বসতঘরে ঢুকে প্রতিবন্ধী মেয়ে সালমা আক্তারের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শেখ ছালামের দাবি, হামলাকারীরা দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সালমার ডান হাতের কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এ সময় শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মেয়েকে রক্ষা করতে গেলে তিনিও আহত হন। হামলার সময় ঘরের আসবাবপত্র ও দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয় বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়রা আহত সালমাকে উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে ২৫ মে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা নিজ বাড়িতে না ফিরে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানান শেখ ছালাম।
তিনি আরও বলেন, থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করায় তিনি মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে ১ মে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা রুজু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ ছালাম অভিযোগ করেন, শেখ জুয়েল ও তার মা খয়রুন নেছা উল্টো তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শেখ ছালামের স্ত্রী শরুফা বেগম, মেয়ে সালমা আক্তার, নাঈমা আক্তার ও শিশু ইমরান আহমদ।
