পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাস্কর চন্দ্র রায়
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
সোমবার ১৮, মে ২০২৬ -- : -- --
বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পাবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
“প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন এক ক্লিকেই প্রয়োজনীয় সব সেবা পায়, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই” এমন মন্তব্য করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।
রবিবার (১৭ মে) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সেবা, একাডেমিক কার্যক্রম, লাইব্রেরি, উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা ও তথ্যসেবাকে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। স্মার্ট ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত ও সহজ সেবা নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব দক্ষতাও অর্জন করুক। এজন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা, ক্যারিয়ার নেটওয়ার্কিং এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পারে।”
বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার প্রধান ভিশন হলো পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মানবিক, আধুনিক ও গবেষণানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা। আমি চাই এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম লিডিং রিসার্চ ও ইনোভেশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এখান থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্বমানের দক্ষতা ও নেতৃত্বের উদাহরণ তৈরি করতে পারে।”
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেজড এডুকেশন চালু, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল লাইব্রেরি সম্প্রসারণ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। গবেষণাকে শুধু একাডেমিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব সমস্যার সমাধানের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে উপাচার্য বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হবে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার জায়গা,সংঘাতের নয়। শিক্ষার পরিবেশ যেন কোনোভাবেই দলীয় প্রভাব বা বিভাজনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে আমরা কাজ করবো।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক, যা পরিচিত হবে গুণগত শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্বকীয়তা তৈরি হবে বাস্তবমুখী জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার মানের মাধ্যমে।”
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, “গণমাধ্যম বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়না। সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলতা, সত্যনিষ্ঠা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবেন বলে আশা করি। সমালোচনা অবশ্যই থাকবে, তবে তা যেন গঠনমূলক হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেশবাসীর সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে হবে।”
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, প্রক্টর ড. কামরুজ্জামান খান এবং ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. রাশেদুল হক। আরও উপস্থিত ছিলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এমরান হোসেন তানিম, সাধারণ সম্পাদক আলফি সানি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকেরা।