প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
মিলন হুসাইন : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের ময়নাদ্বীপে এবার দেখা মিলেছে দৃষ্টিনন্দন জলচর পাখি ‘বেগুনি কালিম’ (Purple Swamphen)। উজ্জ্বল বেগুনি-নীল শরীর, লাল টকটকে ঠোঁট এবং লম্বা পায়ের এই পাখিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয় ও ঘাসযুক্ত এলাকায় বিচরণ করতে দেখা যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বর্তমানে ১৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বসবাস রয়েছে। সেই তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই অপূর্ব সুন্দর পাখিটি। সাধারণত হাওর, বিল কিংবা নলখাগড়াঘেরা জলাভূমি অঞ্চলে এদের দেখা মিললেও, ক্যাম্পাসের শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ এদের আকৃষ্ট করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেগুনি কালিম সাধারণত ছোট দলে বাস করতে পছন্দ করে। এর শক্তিশালী লাল ঠোঁট এবং বড় আঙুলযুক্ত পা একে জলজ উদ্ভিদের ওপর দিয়ে সহজেই চলাচলে সহায়তা করে। মূলত জলজ উদ্ভিদের কচি ডগা, শাপলা-শালুক এবং ছোট জলজ প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতে, ক্যাম্পাসের জলাশয়ে কচুরিপানা ও বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদের প্রাচুর্য এবং মানুষের অবাধ বিচরণ তুলনামূলক কম হওয়ায় এখানে বন্যপ্রাণীরা নিরাপদ বোধ করছে। ফলে দিন দিন বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রাণীর আবাসস্থলে পরিণত হচ্ছে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস। এছাড়াও শীতকালে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে হিমালয় ও সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে বিভিন্ন পরিযায়ী পাখিও ছুটে আসে এই ময়নাদ্বীপে।
পাখিটির নান্দনিক কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তসলিম মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমি মূলত একজন শখের পাখি ফটোগ্রাফার। ক্যাম্পাসেই থাকি বলে অবসর পেলেই ক্যামেরা নিয়ে বের হয়ে পড়ি পাখির ছবি তুলতে। এ পর্যন্ত অনেক প্রজাতির পাখির ছবি তুলেছি, যার মধ্যে পানকৌড়িও রয়েছে। তবে বেগুনি কালিম আমার সবচেয়ে পছন্দের পাখিগুলোর একটি।”
তিনি আরও বলেন, “বাইরের অনেক জায়গায় এই পাখিটি সচরাচর দেখা যায় না। তবে আমাদের ক্যাম্পাসে প্রায়ই দেখা মেলে। নোবিপ্রবিতে প্রায় ১৩১ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রাণীর চমকপ্রদ ছবি ধারণের ইচ্ছা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা বরাবরই সচেতন। এই ধরনের বিরল ও সুন্দর পাখির উপস্থিতি আমাদের পরিবেশগত সাফল্যেরই প্রমাণ।”
উল্লেখ্য, নোবিপ্রবিকে বন্যপ্রাণীবান্ধব একটি ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ জোন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বেগুনি কালিমের মতো বিরল পাখির উপস্থিতি সেই প্রচেষ্টাকে আরও সার্থক করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
