সোমবার ১১, মে ২০২৬

সোমবার ১১, মে ২০২৬ -- : -- --

মা দিবসে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের অনুভূতি

ইয়ামিন আহমেদ,যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ১১:১২ পিএম

ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক মা দিবস উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে আজ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে ‘মা’কে- যিনি সন্তানের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক এবং সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার উৎস। জন্মের আগের দীর্ঘ অপেক্ষা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি সুখ-দুঃখে একজন মা নীরবে আগলে রাখেন সন্তানকে। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্ত মুহূর্তেও মায়ের একটি ফোনকল, একটি হাসি কিংবা স্নেহভরা ‘খেয়েছিস?’ প্রশ্ন এনে দেয় অনির্বচনীয় শান্তি। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মা দিবসকে ঘিরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা ব্যক্ত করেছেন মাকে নিয়ে তাঁদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি। সেই অনুভূতির কথাগুলো তুলে ধরেছেন ক্যাম্পাস রিপোর্ট ২৪-এর যবিপ্রবি প্রতিনিধি ইয়ামিন আহম্মেদ।

“প্রতিটি দিনই হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসা জানানোর দিন”
কলি জাহান, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

'মা’ শব্দটি ছোট হলেও এর গভীরতা অসীম। পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার উৎস হলো মা। জন্মের পর থেকে একজন মা সন্তানের জন্য অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নিরলস পরিশ্রম করেন। তাই শুধু মা দিবসেই নয়, প্রতিটি দিনই হওয়া উচিত মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। পৃথিবীর সকল সন্তানের প্রতি আমার আকুল আবেদন- মা যেভাবে আমাদের জন্ম থেকে ত্যাগ, কষ্ট এবং হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছেন, শেষ বয়সে তাঁদের পাশে থাকা, যত্ন নেওয়া এবং ভালোবাসা দেওয়া আমাদের পরম দায়িত্ব।

“মায়ের একটি ‘খেয়েছিস?’ প্রশ্নেই লুকিয়ে থাকে পৃথিবীর সব শান্তি”
মো. মিনহাজ রহমান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

পরিবার থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে থেকে পড়াশোনা করছেন মিনহাজ রহমান। দূরত্বের মধ্যেও মায়ের স্নেহ কীভাবে প্রতিদিন তাকে সাহস জোগায়, সে কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে বুঝেছি, জীবনের সবচেয়ে শান্তির জায়গা হলো মা। ক্লাস, ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট আর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার মাঝে অনেক সময় খুব ক্লান্ত লাগে। কিন্তু মায়ের সঙ্গে কথা বললেই যেন সব কষ্ট দূর হয়ে যায়। দূরে থেকেও তাঁর দোয়া, ভালোবাসা আর যত্ন আমাকে প্রতিনিয়ত সাহস জোগায়। মায়ের একটি হাসি কিংবা ‘খেয়েছিস?’ প্রশ্নের মাঝেই যেন পুরো পৃথিবীর শান্তি লুকিয়ে আছে।

“মা আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু”
জান্নাতুন ফেরদৌস, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

মা আমাদের জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষ এবং সবচেয়ে বড় আশ্রয়। জন্মের পর থেকেই তিনি ভালোবাসা, স্নেহ ও যত্ন দিয়ে আমাদের বড় করে তোলেন। মা শুধু একজন জন্মদাত্রী নন, তিনি আমাদের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তাই শুধু মা দিবসে নয়, প্রতিদিনই মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, তাঁর কথা শোনা এবং তাঁকে ভালো রাখার চেষ্টা করা আমাদের দায়িত্ব।

‘মা’ পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ও শ্রেষ্ঠ শব্দ”
আবিদ হাসান তানভীর, রসায়ন বিভাগ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

'মা’ পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ও শ্রেষ্ঠ শব্দ। একজন মা দীর্ঘ নয় মাস দশ দিন কষ্ট সহ্য করে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান। এরপর সারাজীবন সন্তানের সুখের জন্য নিরলস পরিশ্রম করেন। পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে তাঁরা নিজেদের কষ্টের কথা ভুলে যান। অথচ মায়ের এই ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রকৃত মূল্য কখনোই পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তাই শুধু বিশেষ কোনো দিনে নয়, সারাবছরই মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।

“মা সন্তানের সবচেয়ে বড় সাহস ও নিরাপদ আশ্রয়”
ফাহিম ফয়সাল, ফার্মেসি বিভাগ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

মা শুধু একটি সম্পর্ক নয়, তিনি সন্তানের সবচেয়ে বড় সাহস, নিরাপদ আশ্রয় এবং অনুপ্রেরণার নাম। সন্তানের জন্য একজন মা যে ত্যাগ স্বীকার করেন, তার কোনো তুলনা হয় না। নিজের সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে তিনি সন্তানের মুখে হাসি ফোটান এবং প্রতিটি কঠিন সময়ে ছায়ার মতো পাশে থাকেন। আমাদের জীবনের প্রতিটি সাফল্য, সাহস এবং এগিয়ে যাওয়ার পেছনে মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাই মা দিবস শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক বিশেষ উপলক্ষ।

Link copied!