প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
৪৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নিয়োগসংক্রান্ত দাপ্তরিক কার্যক্রম এখনো সম্পন্ন হয়নি। এতে করে জ্যেষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন প্রায় তিন হাজার সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ফল প্রকাশিত হলেও ২ হাজার ৯৬৮ জন প্রার্থীর ফাইল এখনো বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। এ নিয়ে প্রার্থীরা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, সুপারিশপ্রাপ্তদের তথ্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশেষ করে টেকনিক্যাল নন-ক্যাডার পদের ক্ষেত্রে যাচাইয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
প্রার্থীরা জানান, সাধারণত ফল প্রকাশের ১৫ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই ফাইল প্রেরণের কাজ শেষ হওয়ার নজির থাকলেও এবার ৬৬ দিন পার হয়ে গেছে। এদিকে ৪৫তম বিসিএসের নন-ক্যাডার প্রার্থীদের মেডিক্যাল পরীক্ষার সময়সূচি ইতোমধ্যে নির্ধারিত হওয়ায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাঁদের আশঙ্কা, ৪৫তম বিসিএসের প্রার্থীরা যদি ৪৪তম বিসিএসের আগে যোগদান করেন, তাহলে চাকরির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ৪৪তম বিসিএসের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু থেকেই নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। দুই দফায় মৌখিক পরীক্ষা এবং তিন দফায় সংশোধিত ক্যাডার ফল প্রকাশের পর ফেব্রুয়ারিতে নন-ক্যাডারের ফল ঘোষণা করা হয়।
প্রার্থীদের দাবি, এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনবলসংকট আরও তীব্র হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তিতে প্রভাব ফেলছে।
এ অবস্থায় সুপারিশপ্রাপ্তরা আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো, মে মাসের মধ্যে যাচাই-বাছাই ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন তারা।
