প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এ অধ্যয়নরত বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির পুলিশ বিভাগ।
এ বিষয়ে এনবিসি নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলেন জামিল লিমন ও নাহিদা এস বৃষ্টি। তাদের দুজনেরই বয়স ২৭ বছর। গত বৃহস্পতিবার তাদের সর্বশেষ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ফ্লোরিডার টাম্পায় তার বাসায় শেষবার দেখা যায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় হিলসবরো কাউন্টি শেরিফস অফিস নিখোঁজের প্রতিবেদন নথিভুক্ত করেছে।
অন্যদিকে, রাসায়নিক প্রকৌশলের শিক্ষার্থী বৃষ্টিকে একই দিন সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে সর্বশেষ দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ তার নিখোঁজের ঘটনাও রেকর্ড করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই দুই শিক্ষার্থী একে অপরের পরিচিত এবং তারা একসঙ্গে থাকতে পারেন। তবে তাদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, এভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা তাদের স্বভাববিরুদ্ধ।
লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ এনবিসি নিউজ-কে বলেন, “লিমন খুব দায়িত্বশীল মানুষ। কাউকে না জানিয়ে তার কোথাও চলে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্তও সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, “সে প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে কথা বলত। নিখোঁজ হওয়ার দিনও আমাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা হয়েছে। সে এমন কিছুই করবে না, যা আমাদের কষ্ট দেবে।”
পরিবারের সদস্যরা আরও জানিয়েছেন, লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ভবিষ্যৎ নিয়েও তাদের পরিকল্পনা ছিল, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তারা আনুষ্ঠানিক সম্পর্কে ছিলেন না।
এনবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিখোঁজ হওয়ার দিন বৃষ্টি তার ল্যাপটপ, আইপ্যাডসহ অন্যান্য সামগ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে রেখে যান; সঙ্গে ছিল না কেবল তার ফোন ও পার্স। অন্যদিকে, লিমনের পাসপোর্ট তার বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লিমনের মোবাইল ফোন সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তার বাসার আশপাশে এবং বৃষ্টির ফোন বিকেল ৫টার দিকে ক্যাম্পাস এলাকায় শনাক্ত হয়। তবে এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে।
