প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
নতুন প্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে যাচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাব্য সময় জুনের মাঝামাঝি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম।
রাজধানীর সাতটি কলেজ নিয়ে গঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। পরবর্তীতে ১ এপ্রিল উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক নুরুল ইসলাম। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি প্রশাসনিক ও একাডেমিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা জানতে উপাচার্য ইতোমধ্যে সাতটি কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে মতবিনিময় করেছেন। ১২ এপ্রিল ঢাকা কলেজ-এ আয়োজিত এক সভায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক উপাচার্যের কাছে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন। এসব দাবির মধ্যে ছিল একাডেমিক সমন্বয়, স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠা, সেশনজট নিরসন, সময়োপযোগী পরীক্ষা পদ্ধতি, কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো, আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন।
উপাচার্য এসব দাবি বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিলেও ‘স্কুলিং’ কাঠামো বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে জানান। তিনি বলেন, ‘স্কুলিং কাঠামো নিয়ে আরও কাজ করতে হবে। এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যাবে না। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়, কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষার্থীরা কো-অর্ডিনেশনের পক্ষে নয় এবং সাতটি কলেজের আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে। এসব ঐতিহ্য হঠাৎ করে একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিবর্তন করা ঠিক হবে না। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।’
অধ্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ডিসিইউর কার্যক্রম শুরু হলেও আগের সেশনগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীনেই থাকবে। এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘চলমান সেশনগুলোর সঙ্গে আমাদের কার্যক্রমের কোনো সংযোগ থাকবে না। ঢাকা ইউনিভার্সিটি আগের নিয়মে পরীক্ষা নেবে। চলমান সেশনগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে অতিরিক্ত জনবল ও জটিলতা তৈরি হবে। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে তাদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’
ভর্তি কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, দ্রুত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো তৈরি ও শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড প্রদান সম্পন্ন করা হবে। সেশনজট নিরসনে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আট মাসের প্রোগ্রাম ছয় মাসে শেষ করা হবে এবং পরীক্ষার দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে।’
শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন উপাচার্য। তিনি জানান, সাতটি ক্যাম্পাসে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এবং ই-লাইব্রেরির মাধ্যমে মানসম্মত বইয়ের ঘাটতি দূর করা হবে। পাশাপাশি যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, আইসিটি শিক্ষার প্রসার এবং গবেষণা উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
