শনিবার ১৮, এপ্রিল ২০২৬

শনিবার ১৮, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

অনুমতি জটিলতায় বুটেক্সে প্রীতি ম্যাচ স্থগিত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

বুটেক্সে প্রীতি ম্যাচ স্থগিত

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) এবং বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি)-এর মধ্যকার একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ অনুমতি জটিলতায় স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিইউএফটির শিক্ষার্থীরা জি.এম.এ.জি ওসমানী হলের গেটে উপস্থিত হলে প্রথমে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের প্রবেশে বাধা দেন। পরে আয়োজকদের অনুরোধে তারা হলে প্রবেশ করেন এবং খেলা শুরু হয়।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে অনুমতি ছাড়া খেলা আয়োজনের অভিযোগে ম্যাচটি স্থগিত করেন। এ সময় বিইউএফটির শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

অনুমতি প্রসঙ্গে জানা যায়, আগের দিন রাতে ফোনে বিষয়টি প্রভোস্টকে জানানো হলেও তা নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্যে না পড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ম্যাচের দিন সকালেও পুনরায় অনুমতি চাওয়া হলেও সেটি নাকচ করা হয়।

ভুক্তভোগী ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইকরামুল হাসান বলেন, গতকাল বিইউএফটির শিক্ষার্থীরা যখন আসে, তখন তাদের হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। পরে আমরা কয়েকজন অনুরোধ করি, যেহেতু তারা ইতোমধ্যে চলে এসেছে, তাই যেন তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। পরে নিরাপত্তাকর্মী প্রভোস্ট স্যারকে জানান যে আমি এবং ৫০তম ব্যাচের আরেকজন তাকে চাপ দিয়েছি। তবে বিইউএফটির খেলোয়াড়রা প্রবেশ করার পরও অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে খেলা শুরু হচ্ছিল না। তখন আমার ব্যাচমেটরা আমাকে প্রভোস্ট স্যারের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধ করে। আমি ফোন দিলে প্রথম দুইবার স্যার ফোন রিসিভ করেননি। এবং পরে স্যার খেলা চলাকালীন মাঠে এসে খেলা বন্ধ করে দেন এবং বিইউএফটির খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে বের করে দেন।

তিনি আরও বলেন, এরপর স্যার আমাদের চারজনকে একে একে তার রুমে ডাকেন। আমি স্যারকে বোঝানোর চেষ্টা করি যে আমি আয়োজক নই, শুধু প্রতিনিধি হিসেবে ফোন করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্যার আমাকে কথা শোনিয়ে বের করে দেন। এরপরে আবার আমাকে এবং ৫০তম ব্যাচের আরেকজনকে অফিসে ডাকা হয়। সেখানে অফিস কর্মকর্তা জানান, স্যার আপনাদের ৬ মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার অথবা ৫ হাজার টাকা জরিমানা করতে বলেছেন। সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে মঙ্গলবারের মধ্যে অভিভাবক নিয়ে স্যারের সঙ্গে দেখা করতে হবে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাস্তির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

আয়োজকদের একজন সিরাজুম মনির জাদিদ বলেন, অতিথি হিসেবে আসা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির এমন আচরণ কি গ্রহণযোগ্য? এর আগেও বুটেক্স দল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ম্যাচ খেলেছে, কিন্তু কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই একই পরিচয়ের—শিক্ষার্থী। এই ধরনের পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা কি আমাদের দায়িত্ব নয়? একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় শুধু তার নিয়মে নয়, বরং তার আচরণেও প্রতিফলিত হয়।

জি.এম.এ.জি ওসমানী হলের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সৌমিক সাহা জানান, খেলার আগের দিন অনুমতির বিষয়ে জানানো হলে তিনি বিষয়টি যাচাই করে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ বিষয়ে বুটেক্স স্পোর্টস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ মিস্ত্রী তীর্থ বলেন, ক্লাবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং ম্যাচ আয়োজনের সঙ্গে ক্লাব সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল না।

প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অনুমতি চাওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, অনুমতি ছাড়াই বহিরাগতদের হলে প্রবেশ করানো এবং মাঠ ব্যবহার করা শৃঙ্খলাবিরোধী।

তিনি আরও জানান, পূর্বে ওসমানী হলের মাঠ বহিরাগতদের দখলে থাকার অভিযোগ ছিল, যার প্রেক্ষিতে বর্তমান প্রশাসন বহিরাগতদের জন্য মাঠ ব্যবহার বন্ধ করে দেয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে জি.এম.এ.জি ওসমানী হল ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা দুপুর ১টায় ওসমানী হল গেটের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী মনে করছেন, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করলে ভবিষ্যতে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অনুমতি না পেয়েও খেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীলতার অভাব রয়েছে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।

Link copied!