শনিবার ১৮, এপ্রিল ২০২৬

শনিবার ১৮, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

ড্যাফোডিলে ১১ লাখ গ্রন্থ ও ই-রিসোর্স : বদলাচ্ছে লাইব্রেরির চিত্র

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

লাইব্রেরি মানেই একসময় ছিল বইয়ের তাক, নীরব পাঠক আর কাগজের পাতা উল্টানোর শব্দ। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে সেই চিরচেনা চিত্র বদলে গেছে। এখন লাইব্রেরি শুধু বই পড়ার জায়গা নয়, বরং হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক জ্ঞানভাণ্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত এক আধুনিক প্ল্যাটফর্ম। এই রূপান্তরের একটি বড় উদাহরণ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি।

প্রায় ৭০ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই লাইব্রেরিতে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পাঠকের বসে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা লাইব্রেরিটিতে বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ গ্রন্থ ও শিক্ষা উপকরণ সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ হার্ডকপি বই এবং বাকি ১০ লাখ ই-রিসোর্স ও অনলাইন জার্নাল।

লাইব্রেরিটি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে লগইন করে লাইব্রেরির রিসোর্স ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও লাইব্রেরিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আইইইই (IEEE)-এর মতো ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক জার্নালের আর্টিকেল শিক্ষার্থীরা এখানে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রযুক্তিনির্ভর সেবার অংশ হিসেবে লাইব্রেরিতে যুক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন আধুনিক ব্যবস্থা। একাধিক ডেটাবেজে একসঙ্গে অনুসন্ধানের জন্য রয়েছে ‘ভিউফাইন্ড’ (ViewFind)। লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছে ‘কোহা (Koha)। গবেষণাপত্র যাচাইয়ের জন্য রয়েছে ‘টার্নইটিন (Turnitin)। পাশাপাশি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি প্রযুক্তি RFID এবং ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চুয়াল ট্যুর সুবিধাও চালু আছে।

এ ছাড়া ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে শিক্ষকদের লেকচার ও পিডিএফ সহজেই পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনার ক্লান্তি দূর করতে পুরো লাইব্রেরিজুড়ে রয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই, লাইব্রেরি ক্যাফে, মাইন্ড ম্যাপিং জোন এবং ন্যাপিং জোন।

জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সৃজনশীলতা বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই লাইব্রেরিতে। সে লক্ষ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে ‘কবি নজরুল এডুপ্লেক্স’, ‘রবীন্দ্রনাথ নলেজ পার্ক’, ‘জসীমউদ্দীন ব্রেইনস্টর্ম পার্ক’ এবং দেশের ইতিহাসচর্চার জন্য বিশেষ ‘বাংলাদেশ কর্নার’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা। সেই গবেষণাকাজে লাইব্রেরি একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা এখানে বসে শুধু পাঠ্যবই পড়েন না, বরং আইইএলটিএস, জিআরই এবং জিম্যাটের মতো আন্তর্জাতিক পরীক্ষার প্রস্তুতিও নেন।

পাঠকদের লাইব্রেরিমুখী করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতি সেমিস্টারে ‘বেস্ট লাইব্রেরি ইউজার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে থাকে।

বর্তমানে লাইব্রেরিকে অনেকেই ‘মনের হাসপাতাল’ বা ‘ভ্যাকসিন অফ ভায়োলেন্স’ হিসেবে আখ্যা দেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই লাইব্রেরি তরুণ প্রজন্মকে মোবাইল ও অনলাইন গেমের আসক্তি থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ সমাজ ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Link copied!