প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
ব্যস্ত একাডেমিক জীবনে মানসিক চাপ ও একাকীত্ব এখন শিক্ষার্থীদের বড় এক চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তবতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ‘মাইন্ড মেটস’ নামে একটি উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন, যার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ তৈরি করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ ব্যাচের পাঁচজন শিক্ষার্থী এ প্রকল্পে যুক্ত আছেন। তারা হলেন সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের তামিম হাসান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের ফারজানা জাহান, গণিত ডিসিপ্লিনের শামীম আহমেদ লিয়ন, ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের তাসমিয়া হাসান এবং কেমিস্ট্রি ডিসিপ্লিনের মুমতাহেনা।
গত বছর দেশের ২০০টিরও বেশি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ছয় মাসের একটি প্রক্রিয়া শেষে ‘সাইকোচ বাংলাদেশ সামার চ্যালেঞ্জ ২০২৫’-এ ‘মোস্ট হাই ইমপ্যাক্ট টিম’ হিসেবে স্বীকৃতি পায় ‘মাইন্ড মেটস’। এই অর্জন তাদের উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে উৎসাহ জুগিয়েছে।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই দিনব্যাপী একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। “Mind Bridge: Bridging Minds, Breaking Silence” শীর্ষক এই আয়োজনে ৮০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। সেমিনারে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, একাডেমিক ও পারিবারিক চাপ ব্যবস্থাপনা, নেতিবাচক চিন্তা নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনপথ নির্ধারণ নিয়ে বিভিন্ন সেশন পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
উদ্যোক্তারা জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই কাজ করছে ‘মাইন্ড মেটস’। প্রতিযোগিতায় শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নেওয়ার পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অর্জনকে তারা দেশের তরুণদের মানসিক সুস্বাস্থ্যের পথে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
দলের লক্ষ্য সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের তামিম হাসান বলেন, "আমরা চাই মাইন্ড মেটস সাধারণ শিক্ষার্থী এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে একটি মজবুত সেতুবন্ধন হয়ে উঠুক। কোনো শিক্ষার্থী যখন উদ্বেগের চোরাবালিতে হারিয়ে যেতে বসবে, আমরা বন্ধুর মতো তার হাত ধরবো। আমরা তাকে সঠিক পথ দেখাবো যে ঠিক কোথায় গেলে সে তার সংকটের সমাধান পাবে।"
প্রকল্পটির মানবিক দিক তুলে ধরে দলের সদস্য ফারজানা জাহান বলেন, "আমাদের স্বপ্ন হলো, যখনই কোনো শিক্ষার্থীর মন ভারাক্রান্ত হবে, মাইন্ড মেটস হবে তার জন্য এক নিরাপদ ঠিকানা।" তিনি জানান, তারা পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নন, তবে সহমর্মিতার সঙ্গে অন্যের কথা শোনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
