প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং টেকসই ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং প্যারামাউন্ট গ্রুপ-এর মধ্যে ৩.৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অন-গ্রিড রুফটপ সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নে পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্যারামাউন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, কোষাধ্যক্ষ ড. হামিদুল হক খানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ নাদির বিন আলী এবং প্যারামাউন্ট গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদাব হোসেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও হলসমূহের ছাদ ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন করা হবে। আগামী চার মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ওপেক্স (OPEX) মডেলে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের ফলে কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই সোলার বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিদ্যুৎ ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় আনবে এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচ স্থিতিশীল রাখবে।
প্রকল্পটি চালু হলে বছরে আনুমানিক ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টন কার্বন নিঃসরণ কমবে, যা প্রায় ৬০ হাজার গাছ রোপণের সমতুল্য। এছাড়া এতে কোনো পানি ব্যবহার বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন না হওয়ায় এটি একটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নেট মিটারিং সুবিধার মাধ্যমে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ থাকবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় আরও কমাতে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক শেখার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যেখানে তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি সম্পর্কে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ এবং বেসরকারি খাতে প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ, যা টেকসই ও স্বনির্ভর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
