প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রপথে অদৃশ্য এক প্রযুক্তিগত যুদ্ধ দ্রুত তীব্র হয়ে উঠছে। এবার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে জিপিএস জ্যামিং প্রযুক্তি, যা জাহাজ ও বিমানের নেভিগেশন ব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালির আশপাশে এই সমস্যার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মেরিটাইম এআই কোম্পানি উইন্ডওয়ার্ডের একজন বিশ্লেষক যখন ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের উপকূলবর্তী অঞ্চলের জাহাজ চলাচলের তথ্য পরীক্ষা করছিলেন, তখন অদ্ভুত এক পরিস্থিতি সামনে আসে। মানচিত্রে দেখা যায়, অনেক জাহাজ একই স্থানে গোলাকার ক্লাস্টার আকারে অবস্থান করছে। বাস্তবে এমনটি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এমনকি কিছু জাহাজের অবস্থান স্থলের ওপর দেখাচ্ছিল। মূলত জিপিএস সিগন্যাল জ্যাম হওয়ায় জাহাজগুলোর প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছিল না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিপিএস জ্যামিং এখন আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এটি সরাসরি দৃশ্যমান না হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নেভিগেশনে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিশাল আকারের তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা মালবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ এসব জাহাজের চালকরা আশপাশের জাহাজের অবস্থান জানতে অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমের ওপর নির্ভর করেন।
যদিও এ ধরনের জ্যামিংয়ের পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি, তবে অনেক সামরিক বিশ্লেষক ইরানকে সন্দেহ করছেন। কারণ ইরান এর আগে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে হামলার হুমকিও দিয়েছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান নিজস্ব প্রযুক্তি বা রাশিয়া ও চীনের সহায়তায় এই ধরনের জ্যামিং ডিভাইস ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ও ড্রোন সুরক্ষার জন্য পাল্টা জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এতে পুরো অঞ্চলে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিকল্প নেভিগেশন প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করছে। কেউ জাইরোস্কোপ ও সেন্সরভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করছে, আবার কেউ নক্ষত্র বা অপটিক্যাল চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে অবস্থান নির্ধারণের প্রযুক্তি উন্নয়ন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে নিরাপদ ও এনক্রিপ্টেড জিপিএস ব্যবস্থার উন্নয়নই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এখনকার সংকটই হয়তো নতুন প্রজন্মের আরও নিরাপদ নেভিগেশন প্রযুক্তির পথ খুলে দেবে।
